শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ভারতীয় ফুটবলে নক্ষত্রপতন: পরপারে ‘মোহনবাগান রত্ন’ টুটু বসু

ভারতীয় ফুটবল ও মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের অবসান হলো।

মোহনবাগানের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও ভারতের সাবেক রাজ্যসভা সদস্য স্বপন সাধন বসু (যিনি ফুটবল মহলে ‘টুটু বসু’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন) মঙ্গলবার কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে টুটু বসু হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

এরপর তাকে দ্রুত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তিনি পরলোকগমন করেন।
 

তার নাতি অরিঞ্জয় বসু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন সেরা বাবা, সেরা দাদু, একজন অসাধারণ সংগঠক এবং আমাদের সবার সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।’

১৯৪৮ সালের ২৩ জানুয়ারি হাওড়ায় জন্ম নেওয়া টুটু বসু ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে প্রথমবার মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন।

এরপর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি ক্লাবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আসীন ছিলেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। 

এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। মাঝে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিরতি নিলেও ২০২২ সালে তিনি পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সব পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি ফুটবলার চিমা ওকোরিকে দলে আনার পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন টুটু বসু। ১৯৯১ সালে কেরালা পুলিশ থেকে কিংবদন্তি আই এম বিজয়নকে মোহনবাগানে ভেড়ানোর ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

এছাড়া ক্লাবের ফুটবল বিভাগে আরপি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপকে (বর্তমানে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট) যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন টুটু বসু। তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ক্লাব ও ফুটবলে অবদানের জন্য তাকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।

টুটু বসুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এক বিবৃতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মোহনবাগান রত্ন স্বপন সাধন বসুর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ক্লাবের প্রতি তার নিষ্ঠা ও আজীবন সেবা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page