সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

রিয়ালকে হারিয়েই শিরোপা উৎসবে বার্সেলোনা

লা লিগার শিরোপা দৌড়ে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনার সম্ভাবনা থাকলেও ক্লাসিকোয় তার কোনো ছাপ দেখা গেল না। ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা।

সেই জয়ের সঙ্গে নিশ্চিত হয়েছে কাতালানদের আরেকটি লিগ শিরোপাও। 

রোববার রাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে অনুষ্ঠিত মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোয় রিয়ালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই মার্কাস র‌্যাশফোর্ড ও ফেররান তরেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে ফেলে স্বাগতিকরা। 

এই শিরোপার মাধ্যমে লা লিগা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯তম ট্রফি ঘরে তুলল বার্সেলোনা।

বিশেষত্ব হলো, এবারই প্রথম ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে লিগ জয়ের উৎসব করল তারা। 

৩৫ ম্যাচ শেষে ৩০ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সার পয়েন্ট এখন ৯১।

অন্যদিকে ২৪ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে রেয়ালের সংগ্রহ ৭৭ পয়েন্ট। ফলে তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেল কাতালানদের। 

ম্যাচের দিনই ব্যক্তিগত শোকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিককে। কয়েক ঘণ্টা আগে বাবাকে হারানোর পরও দায়িত্ববোধ থেকে ডাগআউটে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে অগোছালো অবস্থায় থাকা দলটির দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই শিরোপা জিতিয়েছিলেন এই জার্মান কোচ। এবারও ধরে রাখলেন সেই সাফল্য।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই দানি ওলমোর আদায় করা ফ্রি-কিক থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করেন র‌্যাশফোর্ড। রক্ষণভাগের দেয়াল ভেদ করে ইংলিশ ফরোয়ার্ডের সেই শটে কোনো সুযোগই ছিল না থিবো কোর্তোয়ার।

সবশেষ ছয় লিগ ম্যাচে এটি ছিল র‌্যাশফোর্ডের চতুর্থ গোল। চলতি লিগে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮-এ, আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৪টি।

প্রথম ধাক্কা সামলানোর আগেই দ্বিতীয়বার কাঁপে রেয়ালের জাল। বাঁ দিক থেকে আসা আক্রমণে রুডিগারকে কাটিয়ে দানি ওলমো চমৎকার কাটব্যাক করলে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন ফেররান তরেস। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পাওয়া এই ফরোয়ার্ডের লিগে এটি ১৬তম গোল, মৌসুমে মোট ২১টি।

দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল রিয়াল। তবে গন্সালো গার্সিয়া ও অরেলিয়ান চুয়ামেনি ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষদিকে র‌্যাশফোর্ড আরেকটি গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কোর্তোয়ার অসাধারণ সেভে বেঁচে যায় সফরকারীরা।

বিরতির পরও ম্যাচে ফেরার মতো ফুটবল খেলতে পারেনি রিয়াল। ৬৩তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোল। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, ততই নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

শিরোপা নিশ্চিত হলেও বার্সেলোনার সামনে এখনও একটি লক্ষ্য বাকি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, এবার তারা লিগে ১০০ পয়েন্ট ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলছে। সেই লক্ষ্য পূরণে বাকি তিন ম্যাচে আলাভেস, রিয়াল বেতিস ও ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে কাতালানরা।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page