মোহনবাগানের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও ভারতের সাবেক রাজ্যসভা সদস্য স্বপন সাধন বসু (যিনি ফুটবল মহলে ‘টুটু বসু’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন) মঙ্গলবার কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে টুটু বসু হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
তার নাতি অরিঞ্জয় বসু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই শোক সংবাদ নিশ্চিত করে লিখেছেন, ‘তিনি ছিলেন সেরা বাবা, সেরা দাদু, একজন অসাধারণ সংগঠক এবং আমাদের সবার সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।’
১৯৪৮ সালের ২৩ জানুয়ারি হাওড়ায় জন্ম নেওয়া টুটু বসু ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে প্রথমবার মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন।
এরপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। মাঝে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিরতি নিলেও ২০২২ সালে তিনি পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সব পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন।
মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি ফুটবলার চিমা ওকোরিকে দলে আনার পেছনে প্রধান কারিগর ছিলেন টুটু বসু। ১৯৯১ সালে কেরালা পুলিশ থেকে কিংবদন্তি আই এম বিজয়নকে মোহনবাগানে ভেড়ানোর ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া ক্লাবের ফুটবল বিভাগে আরপি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপকে (বর্তমানে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট) যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন টুটু বসু। তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ক্লাব ও ফুটবলে অবদানের জন্য তাকে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
টুটু বসুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। এক বিবৃতিতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘মোহনবাগান রত্ন স্বপন সাধন বসুর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ক্লাবের প্রতি তার নিষ্ঠা ও আজীবন সেবা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’