বুধবার (১৩ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সংগঠনটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মোজাম্মেল হক বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।
তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী হামে মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে।
তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল টিকাদান কর্মসূচি এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এ অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
নওশিন মুশতারি সাথী বলেন, শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নানা সংকটে পড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা খাতে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। আমরা আশা করি, শিক্ষা খাতকে আর অবহেলা করা হবে না।
রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ টিকাদান কর্মসূচিতে অবহেলার কারণে অসংখ্য শিশুর প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।
তিনি সরকারি হাসপাতালগুলোতে ‘হাম কর্নার’ চালু এবং পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সালমান সিদ্দিকী বলেন, ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষা খাতে বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত থেকেছে।
তিনি বলেন, গবেষণায় কম বরাদ্দের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান ও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, আবাসন ও শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবারের সংকট এখনো কাটেনি।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষকে চিকিৎসা ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি নিজ খরচে বহন করতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, শয্যা ও ওষুধের সংকট রয়েছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।
তিনি বলেন, চিকিৎসা এখন মৌলিক অধিকার নয় বরং ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
সমাবেশ থেকে আগামী জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।