রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

ভালোবাসায় অভিভূত মুশফিক, জানালেন কৃতজ্ঞতা

৩৯তম জন্মদিনে কেক কাটার উৎসব সেরে মাঠে নেমে নিজেই নিজেকে উপহার দিলেন মুশফিকুর রহিম।

পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্যারিয়ারের ২৯তম ফিফটি তুলেছেন তিনি।

যদিও ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি মুশফিক। আউট হয়েছেন ৭১ রানে।
শনিবার (৯ মে)ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাঠে নামার আগে সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হন। কেক কেটেই ব্যাটিংয়ে নামেন ৪৮ রান নিয়ে।

আগের দিন ১০৪ বল খেলা মুশফিককে ফিফটি স্পর্শ করতে আরও ১০ বল খেলতে হয়েছে। 

মুশফিকের জন্মদিনে সরাসরি কিংবা মাঠের বাইরে থেকে অনেক সতীর্থ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তাদের মধ্যে একজন তাওহীদ হৃদয়। মুশফিককে আইডল মেনেই ক্রিকেটার হয়ে ওঠা তাওহীদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্বপ্নের শুরুটা ভাইকে দেখেই। ছোটোবেলায় স্টেডিয়ামের গ্রিলে দাঁড়িয়ে দেখা থেকে একসাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা। গল্পটা আরও অনেক দূর চলুক। আল্লাহ আপনাকে আমার জীবনে আরও অনেক বছর এভাবেই সাফল্যের সাথে রাখুক। শুভ জন্মদিন ভাই।’ 

সকালে সতীর্থদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মাঠে নামা মুশফিকের বিকেলটা কেটেছে আরও ভালোভাবে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মাকে পাশে রেখে ড্রেসিংরুমের সামনে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন মুশফিক। মুশফিকের ৩৯তম জন্মদিন উপলক্ষে স্ত্রী মন্ডি বিশেষ কেক নিয়ে মাঠে হাজির হন।

দারুণ একটি দিন কাটিয়ে মুশফিক আবেগাপ্লুত বার্তা দিয়েছেন। নিজের ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘চারদিক থেকে যে পরিমাণ ভালোবাসা আমার জন্মদিন উপলক্ষে আজ আমি পেয়েছি তাতে অভিভূত। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তাদেরকে। আপনাদের ভালোবাসা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।’

শেষে আরও লেখেন, ‘আপনারা আমাকে যেভাবে সমর্থন জানিয়েছেন তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের দোয়াকে সঙ্গী করে দারুণ সব স্মৃতি নিয়ে আরো একটি বছর পার করবো ইনশাআল্লাহ। এই যাত্রায় আমার সাথে থাকার জন্য আবারও ধন্যবাদ।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page