প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে লালপুর ৩-০ গোলে জয়লাভ করে, যার তিনটি গোলই আসে আলেয়ার পা থেকে।
এরপর তৃতীয় ও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিপক্ষ গুরুদাসপুরকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লালপুর। এই অসামান্য নৈপুণ্যেও হ্যাটট্রিকসহ দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে এমন বিধ্বংসী ফর্মের কারণে নাটোর জেলার নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলেয়া।
লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলেয়ার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। চার বোন ও এক ভাইয়ের অভাবের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরীর ফুটবলের প্রতি এমন অনুরাগে প্রধান সাহস জুগিয়েছেন তার কৃষক বাবা। বাবার অনুপ্রেরণাতেই নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির এই খেলোয়াড় কোচ জুয়েলের অধীনে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল মাঠে নিয়মিত কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছেন।
অভাবের চোখরাঙানি এড়িয়ে আলেয়ার দুচোখ জুড়ে এখন শুধুই বড় স্বপ্ন। তার একমাত্র লক্ষ্য লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ওড়ানো।
অভাবের মেঘ সরিয়ে আলেয়া যেভাবে সাফল্যের সূর্য হয়ে উদিত হয়েছেন, তা এখন লালপুরসহ পুরো নাটোরবাসীর জন্য এক গর্বের উপাখ্যান। গ্রাম বাংলার এই বিস্ময়বালিকার পায়ের জাদুতে দেশের ফুটবল নতুন কিছু পাবে এবং সুযোগ পেলে একদিন সে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা উড়াবে, এমনটাই বিশ্বাস সবার।