সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

আগামী শুক্রবারের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে জাতীয় দলের নতুন কোচ

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন শেষ ধাপে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যেই লাল-সবুজের ডাগআউটের নতুন দায়িত্বশীলের নাম ঘোষণা করতে পারে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

একই দিনে জাতীয় দলের আগামী দুই বছরের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখাও তুলে ধরবেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। 

রোববার (১০ মে) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে কথা বলেন বাফুফে সভাপতি।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১১ জন কোচের সঙ্গে ইতোমধ্যে অনলাইন সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে এবং আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। 

কোচ নিয়োগের সময়সীমা নিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা বিশ্লেষণ করে ১১ জনকে অনলাইন ইন্টারভিউতে ডেকেছিলাম।

আলোচনা এখনও চলছে। ১৫ মে’র মধ্যে আমরা বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চাই এবং সেদিনই আপনাদের সামনে “ফিউচার অফ বাংলাদেশ” উপস্থাপন করব।
’ 

তিনি আরও জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও কার্যকর রাখতেই এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ নিজেদের বিকল্প খোলা রেখেছে।

উচ্চ পারিশ্রমিকের কোচ আনতে হলেও বাজেট বড় কোনো সমস্যা হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি নির্দিষ্ট বাজেট আছে। সেই সীমার মধ্যে যদি সম্ভাব্য কোচের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে যায়, তাহলে ভালো। আর যদি বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা স্পন্সরদের সঙ্গে কথা বলব। পাশাপাশি কিছু ডোনার সংস্থা এবং মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।’

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে বাফুফেই নেবে, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় থাকা কোচ ব্রুনো মিচেলের অন্য ক্লাবে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়েও কথা বলতে চাননি তাবিথ। কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করলেও তিনি জানান, বাফুফে এখন প্রতিটি প্রার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করছে।

তার ভাষায়, ‘আমরা কোনো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ডে আটকে নেই। বরং কোচদের নিজস্ব আইডিয়া এবং আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ দলকে কোথায় নিয়ে যেতে পারবেন, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

শুধু ফিফা র‍্যাঙ্কিং উন্নতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল দর্শন ও পরিকল্পনার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাবিথ বলেন, ‘আমরা কোচদের সঙ্গে আমাদের ভিশন শেয়ার করেছি। কে আমাদের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন, কিংবা কে আরও ভালো বিকল্প চিন্তা দিতে পারেন, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। আগামী দুই বছর নিয়ে আমরা খুবই ওপেন-মাইন্ডেড।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page