রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

আরামবাগকে হারিয়ে মোহামেডানের জয়

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ফিরতি পর্বের ম্যাচে আরামবাগকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আজ শনিবার মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে গোলরক্ষক আজাদ হোসেনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে সৌরভ দেওয়ান এবং বদলি খেলোয়াড় রহিম উদ্দিনের লক্ষ্যভেদে পূর্ণ তিন পয়েন্ট আদায় করে নেয় সাদাকালো শিবির।

প্রথম লেগে দল দুটির লড়াই ১-১ ড্রয়ে মীমাংসা হয়েছিল। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে আব্দুল কাইয়ুম সেন্টুর শিষ্যরা।
১৬ ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ২০ পয়েন্ট। অন্যদিকে, সমান ম্যাচ খেলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে রেলিগেশন জোনের ঠিক ওপরে অর্থাৎ অষ্টম স্থানে ভুগছে আরামবাগ।
লিগ টেবিলে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বসুন্ধরা কিংস এবং ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আবাহনী। 

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মোহামেডান।

অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল তারা, কিন্তু জুয়েল মিয়ার পাস থেকে স্যামুয়েল বোয়াটেংয়ের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর আরামবাগের গোলরক্ষক আজাদ হোসেন যেন চীনের প্রাচীর হয়ে ওঠেন। ৪০ মিনিটে শান্তর থ্রু পাস থেকে সৌরভের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ আজাদ দারুণ ক্ষিপ্রতায় নস্যাৎ করেন এবং কিছুক্ষণ পরেই আরিফের জোরালো শটও রুখে দেন। 

এর আগে ১৮ মিনিটে মাঠে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। বলের দখল নিতে গিয়ে মোহামেডানের মিনহাজ রাকিবের পা আরামবাগের ঘানাইয়ান ফুটবলার ল্যানটেই মিলসের বুকে আঘাত করে। মিলস আহত হয়ে মাঠের বাইরে চিকিৎসা নিলেও রেফারি কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আরামবাগও একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে। মিলসের ক্রসে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়েও ঘানার ফরোয়ার্ড কুয়ামে কিজিতো হেড করে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।

বিরতির পর মোহামেডান আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৫০ মিনিটে আজাদ আরও একবার দলকে রক্ষা করলেও, ৫১ মিনিটে আর পারেননি। সাইফুলের বাড়ানো বল বোয়াটেং ও গোলরক্ষক আজাদ কেউই ক্লিয়ার করতে না পারায় বল পেয়ে যান সৌরভ। ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মোহামেডানের জয় নিশ্চিত হয়। ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় বক্সে ঢুকে আরিফ বল কাটব্যাক করেন, যা থেকে মাত্র ১০ মিনিট আগে বদলি হিসেবে নামা রহিম উদ্দিন নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। বাকি সময় আরামবাগ আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারায় সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান।

দিনের অপর এক ম্যাচে রাজশাহীতে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত কামব্যাক করে তারা জয় তুলে নেয়। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় জাভেদ আহমেদের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল রহমতগঞ্জ। তবে ৩৫ মিনিটে ব্রাদার্সকে সমতায় ফেরান পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্ত। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রহমতগঞ্জের শাহিন আহমেদ নিজেদের জালে বল জড়ালে আত্মঘাতী গোলে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তার দল। এরপর ৭১ মিনিটে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল করে ব্রাদার্সের ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন শায়েক। এই পরাজয়ের ফলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে পুরান ঢাকার দল রহমতগঞ্জ। অন্যদিকে, দারুণ এই জয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page