শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম

জাতীয় দলের জার্সিতে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন লালপুরের আলেয়ার

জীর্ণ কুটির আর দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী হলেও, ফুটবল মাঠই তার আশার বাতিঘর। বল পায়ে মাঠে নামলেই যেন গোলবন্যা ছোটে তার।

টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাটোরের লালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম জোতদৈবকির কৃষক পরিবারের সন্তান মোছা. আলেয়া খাতুন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো বাধাই জয় করা সম্ভব, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই কিশোরী।
প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এ বল পায়ে জাদুকরী নৈপুণ্য দেখিয়েছেন আলেয়া। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সে ভর করেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে লালপুর উপজেলা।

টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টানা হ্যাটট্রিক করে এক বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি। 

প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে লালপুর ৩-০ গোলে জয়লাভ করে, যার তিনটি গোলই আসে আলেয়ার পা থেকে।

সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে সিংড়া উপজেলার বিপক্ষেও তিনি দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেন এবং দলকে ৬-০ ব্যবধানের বিশাল জয় এনে দেন। 

এরপর তৃতীয় ও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রতিপক্ষ গুরুদাসপুরকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লালপুর। এই অসামান্য নৈপুণ্যেও হ্যাটট্রিকসহ দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে এমন বিধ্বংসী ফর্মের কারণে নাটোর জেলার নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলেয়া।

লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলেয়ার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। চার বোন ও এক ভাইয়ের অভাবের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরীর ফুটবলের প্রতি এমন অনুরাগে প্রধান সাহস জুগিয়েছেন তার কৃষক বাবা। বাবার অনুপ্রেরণাতেই নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির এই খেলোয়াড় কোচ জুয়েলের অধীনে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল মাঠে নিয়মিত কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছেন।

অভাবের চোখরাঙানি এড়িয়ে আলেয়ার দুচোখ জুড়ে এখন শুধুই বড় স্বপ্ন। তার একমাত্র লক্ষ্য লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ওড়ানো।

অভাবের মেঘ সরিয়ে আলেয়া যেভাবে সাফল্যের সূর্য হয়ে উদিত হয়েছেন, তা এখন লালপুরসহ পুরো নাটোরবাসীর জন্য এক গর্বের উপাখ্যান। গ্রাম বাংলার এই বিস্ময়বালিকার পায়ের জাদুতে দেশের ফুটবল নতুন কিছু পাবে এবং সুযোগ পেলে একদিন সে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা উড়াবে, এমনটাই বিশ্বাস সবার।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page