সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন

মাঠের বাইরের যুদ্ধ এড়িয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ইরা

গত সোমবার ইরানের ফুটবল দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায়, আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের হোম জার্সি পরে ফটোশুটে অংশ নিচ্ছেন খেলোয়াড়রা।

ইরানের মূল গোলরক্ষক আলিরেজা সাফার বেইরানভান্দ এবং উইঙ্গার মিলাদ মোহাম্মদীসহ দলের বেশ কয়েকজন তারকাকে এই নতুন জার্সিতে দেখা গেছে। এছাড়া একটি অজ্ঞাত স্থানে দলের খেলোয়াড়দের কঠোর অনুশীলনের ছবিও পোস্ট করা হয়েছে, যা ভক্তদের মাঝে দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে

এবারের বিশ্বকাপে ইরান রয়েছে ‘গ্রুপ জি’-তে। এই গ্রুপের সবকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যারা কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বমঞ্চে এশীয় পরাশক্তি ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ইরানি কর্মকর্তারা আমেরিকার মতো যুদ্ধরত দেশে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরানি খেলোয়াড়রা সেখানে নিরাপদ নাও হতে পারেন।

 

তবে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ইরানের ফুটবল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ইরান এই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি শুরুতেই পরিষ্কার করে দিতে চাই, অবশ্যই ইরান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।’

পরবর্তীতে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্পও সুর নরম করে বলেন, ‘জিয়ান্নি (ইনফান্তিনো) যখন বলেছে, তখন আমার আপত্তি নেই। তাদের খেলতে দেওয়া হোক।’

ইরানের সহকারী কোচ সাঈদ আলহোই দেশটির ক্রীড়া মাধ্যম ‘ভারজেশ৩’-কে দলের বিস্তারিত পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী বুধবার একটি অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে আমাদের দেশে চলমান প্রথম ধাপের অনুশীলন শেষ হবে।’

ম্যাচটি একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবং খেলোয়াড়রা অফিশিয়াল কিট পরেই মাঠে নামবেন। এমনকি বিশ্বকাপের আবহ তৈরি করতে এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক রেফারি এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।

এরপর আগামী সোমবার (১১ মে) চূড়ান্ত ধাপের অনুশীলনের জন্য তুরস্কে রওনা দেবে ইরান দল। সেখানে তারা তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে, যার মধ্যে দুটি স্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষে ক্লোজড-ডোর (বন্ধ দ্বারে) এবং তৃতীয়টি একটি শক্তিশালী আফ্রিকান দেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। জুনের শুরুতে তারা আমেরিকার উদ্দেশে রওনা হবে।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে টিম মেল্লি। ২১ জুন একই স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের। আর ২৬ জুন সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ মিশর।

বিশ্বকাপের এই চমৎকার প্রস্তুতির মাঝেই গত সোমবার এক বড় ধাক্কা খেয়েছে ইরান। পোলিশ ক্লাব লেখ পোজনানের হয়ে খেলার সময় হাঁটুতে গুরুতর চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন দলের প্রধান ডান-উইঙ্গার আলী গোলিজাদেহ।

গত শনিবার মোটর লুবলিনের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তার বাঁ হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আলীর অস্ত্রোপচার করা হবে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে তার বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। প্রধান উইঙ্গারের এই ছিটকে যাওয়া ইরানের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় বড় একটি ক্ষত তৈরি করল।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page