জবাবে হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর বিশ্বস্ত ও বন্ধুপ্রতিম দেশ।
হাইকমিশনার জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ‘সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রতিবছর প্রায় ৩০০টি সভা, সেমিনার, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশও অংশ নিতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বাংলাদেশের চলমান পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়াতেও সিঙ্গাপুরের নীতিগত সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে স্ক্যাম, ফিশিংসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ বাড়ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় দুদেশের মধ্যে নিয়মিত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জরুরি।
বৈঠকে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন ডেরেক লো। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।
পারস্পরিক আইনি সহযোগিতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ চুক্তির প্রস্তাব গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরের কাছে পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুরের সম্মতি পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করে ডেরেক লো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আবাসন ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ আগ্রহের কথা জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি, সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকা ডিরেক্টরেটের কান্ট্রি অফিসার টাই ডে আর্ন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।