সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

নাসুমের ক্ষোভ: ‘বাকি ৩৫ লাখ টাকা কি মরার পর পাব?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে পারিশ্রমিক বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে জাতীয় দলের স্পিনার নাসুম আহমেদ।

তিনি দাবি করেছেন সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলার পরও তার উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের পাওনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত বিপিএল মৌসুমে সিলেট টাইটান্সের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন নাসুম। ১২ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হন এই বাঁহাতি স্পিনার।

তার পারফরম্যান্সে ভর করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত উঠেছিল দলটি। তবে মাঠের সাফল্যের পরও আর্থিক দিক থেকে সন্তুষ্ট নন তিনি।
 

এর আগে বিষয়টি সামনে এলে সিলেট টাইটান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নাসুম আহমেদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির দাবি ছিল, তার কোনো বকেয়া অর্থ নেই এবং বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে সমাধানও হয়েছে।

তবে নতুন করে আলোচনায় এনেছেন নাসুম নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তার মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ আরও ৩৫ লাখ টাকা এখনো পাওনা রয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি। এই দাবির পক্ষে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি চুক্তিপত্রও প্রকাশ করেছেন নাসুম।

নিজের পোস্টে ক্ষোভ ঝেড়ে নাসুম লিখেছেন, ‘হ্যালো টাইটান্স। আমার ৩৫ লাখ টাকা তো দিয়েছেন, সরাসরি চুক্তির বাকি ৩৫ লাখ টাকা কি দিবেন? নাকি মরার পর চল্লিশার সময় দিবেন? দিলেও সেটা আমাকে জানাবেন দয়া করে, যেন আমি আমার ফ্যামিলিকে বলে যেতে পারি সিলেট টিম মালিক মাহিদুল ইসলাম সামি আমার টাকা দিবে আমি মরার পর।’

এছাড়া সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরীকেও উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, ‘ফাহিম ভাই, আপনাকে সালাম। আমি জানি আপনি ব্যস্ত। একটু সময় হলে দয়া করে ভয়েসগুলো শুনবেন-আপনাকে নিয়ে আমি কী কী কথা বলেছি, আর তারা আমার সঙ্গে কী কথা বলেছে। আপনার কাছে আমার কিছু চাওয়ার নেই। আপনি আমাদের এলাকার মানুষ, বড় ভাই হিসেবে আপনি একটা দল গড়ে তুলেছিলেন। সেই জায়গা থেকে ছোট ভাই হিসেবে আপনাকে জানালাম।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভাই, আমার টাকাগুলো যেন পাই-এই বিষয়ে একটু দেখবেন। আমার কথা বলার মতো কেউ নেই। আল্লাহর শুকরিয়া, আপনার নাম্বারটা পেয়েছি, দুই মিনিট কথা বলতে পেরেছি। আপনার সময় নেই বলে বেশি কথা হয়নি। তবে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই যে আপনি দুই মিনিট হলেও আমাকে সময় দিয়ে



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page