সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

ছয় গোলের লড়াইয়ে কোনোমতে বাঁচল সিটি, সুবিধায় আর্সেনাল

প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার সিটির একচেটিয়া দাপটে এভারটন যেন ছিল পুরোপুরি কোণঠাসা। কিন্তু বিরতির পর চিত্রটাই পাল্টে যায় নাটকীয়ভাবে।

স্বাগতিকদের ঝড়ো আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়া পেপ গুয়ার্দিওলার দল শেষ মুহূর্তে গোল করে কোনোমতে ড্র তুলে নেয়। 

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর এই ম্যাচটি শেষ হয়েছে ৩-৩ সমতায়।

গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপা দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে সিটি, সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে আর্সেনাল। 

এই ম্যাচে সিটির হয়ে প্রথম ও শেষ গোল করেন জেরেমি ডোকু, আর মাঝের গোলটি আসে আর্লিং হলান্ডের পা থেকে।

যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ডোকুর গোলই হার এড়ানোর পাশাপাশি শিরোপা লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এভারটনের হয়ে জোড়া গোল করেছেন তিয়ের্নো বেরি, অন্য গোলটি জ্যাক ও’ব্রায়েনের।
 

বর্তমানে ৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। ৩৪ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে সিটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সিটি। ১৬তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ আসে, তবে হলান্ডের শট রুখে দেয় এভারটনের রক্ষণ। কিছুক্ষণ পর নিকো ও’রাইলির শটও একই পরিণতি পায়। একই ধারায় আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে সিটি। চেরকির শট গোলরক্ষকের বুকে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে সেমেনিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

প্রথমার্ধে রক্ষণে ব্যস্ত থাকলেও ৩২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পায় এভারটন। মেরলিন রুরলের ক্রস থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও দোন্নারুম্মা ও ডিফেন্ডাররা মিলে তা সামাল দেন। ৪৩তম মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় সিটি। চেরকির পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে দলকে এগিয়ে দেন ডোকু।

বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে এভারটন। ৬০তম মিনিটে এনজাইয়ের শট দোন্নারুম্মা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান। দুই মিনিট পর আরও বড় সুযোগ পেলেও একা পেয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন এনজাই, দুর্দান্ত সেভ করেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক।

৬৮তম মিনিটে সমতায় ফেরে এভারটন। ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ির ভুল পাস থেকে বল পেয়ে সহজেই গোল করেন বেরি। ৭৩তম মিনিটে জেমস গার্নারের ক্রস থেকে হেডে দলকে এগিয়ে দেন ও’ব্রায়েন। এরপর ৮১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন বেরি।

তবে দ্রুতই ম্যাচে ফেরে সিটি। হলান্ডের চিপ শটে ব্যবধান কমে ৩-২ হয়। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ডোকুর বাঁকানো শটে সমতা ফেরে সিটি।

এই ড্রয়ে হার এড়ালেও তিন পয়েন্ট না পাওয়ায় শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে গেল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page