সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে ঢাকায় ফিরলেন নাহিদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দারুন বোলিং করে সিরিজ সেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। সময়টা তার জন্য দারুণ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু আনন্দের মাঝেই এসেছে অস্বস্তির খবর। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট পেয়েছেন এই তরুণ পেসার।
 

বৃহস্পতিবার মাঠের বিজ্ঞাপনের বোর্ডের পেরেকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার ডান হাতের চামড়া ছিলে যায়। সেখান থেকে রক্তও বের হয়।

সেই অবস্থায় নিয়ে পড়ে বোলিং করেছেন নাহিদ। 

স্বস্তির বিষয় হলো, তার হাতে সেলাই লাগেনি।

এই মুহুর্তে ঢাকায় ফিরে গেছেন টি-টোয়েন্টি দলে না থাকা এই পেসার। আপাতত হাতে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। তবে সেটিও ২/১ দিনের মধ্যে খুলে ফেলা হবে। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল বিভাগের প্রধান দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, দু–এক দিনের মধ্যেই আবার বল করতে পারবেন নাহিদ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নাহিদ নিয়েছেন ৮ উইকেট। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। পুরো সিরিজজুড়েই তার গতিময় বোলিংয়ে ভুগেছেন কিউই ব্যাটসম্যানরা।

এদিকে ওয়ানডে সিরিজ খেলে নাহিদের পাকিস্তান সুপার লিগে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে অনাপত্তিপত্র দেয়নি বিসিবি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আপাতত আসন্ন পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নেবেন এই পেসার।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page