সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

ঘরোয়া ক্রিকেট শক্তিশালী না হলে জাতীয় দলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে: মোসাদ্দেক

বিসিএলের লাল বলের আসরের প্রথম রাউন্ড শেষে আবারও সামনে এসেছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব। সিলেটে সেন্ট্রাল জোনকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে ইস্ট জোন জয় তুলে নেওয়ার পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ বিষয়েই কথা বলেন সেন্ট্রাল জোনের অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটকে দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি উল্লেখ করে মোসাদ্দেক বলেন, ‘ডামেস্টিক ক্রিকেটটা আমাদের পুরো ক্রিকেটের প্রাণ। এখান থেকে যারা ন্যাশনাল টিমে খেলে না, তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে যায় তাদের পারিবারিক বা সাংসারিক জীবন যাপন করতে আসলে।

তো সেই জায়গা থেকে যদি এরকম উদ্যোগ সবসময় নেওয়া হয় এবং সঠিক সময়ে খেলাগুলো হয়, একই সাথে যেমন পারফর্মাররা আসবে একই সাথে প্লেয়াররাও মানে আপনার মাঠে থাকবে সবসময়, তাদের জন্য অনেক কিছু সহজ হয়ে যাবে।’ 

তিনি মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানো গেলে খেলোয়াড়দের আগ্রহও বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘একই সাথে যখন আপনি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ম্যাচ ফি থেকে শুরু করে বেতন বৃদ্ধি করবেন, ওই সময় আপনি আরও অনেক ক্রিকেটারকে পাবেন যারা কিনা আরও উৎসাহ নিয়ে এই ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলতে চাইবে। তো এটা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ আমার কাছে মনে হয়।
’ 

বাংলাদেশের ঘরোয়া কাঠামোর সঙ্গে অন্য দেশের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘আপনি সব ক্রিকেটারের কথা চিন্তা করেন, অবশ্যই খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। এটা আপনি অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করতে গেলে আপনি দেখতে পারবেন যে ওই জায়গা থেকে আমাদের সাথে পার্থক্যটা অনেক বেশি থাকে সবসময়। সেই জায়গা থেকে একটা শূন্যতা পূরণ করার একটা প্রচেষ্টা। তো সেটা হয়তোবা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে আমি আশা করব।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page