সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

ইতিহাস গড়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ নারী হকি দল

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখে ফেলল বাংলাদেশ নারী হকি দল। দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম জয়ের স্বাদ পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট ঘরে তুলেছে তারা। 

এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে ৫-৫ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

সেই ফলাফলের পর এই জয় তাদের সেমিফাইনালের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। 

ইন্দোনেশিয়ার জিবিকে হকি মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় মনোযোগী ছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের ১১তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে শারিকা রিমন গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ, এক মিনিটের মধ্যেই একইভাবে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে সমতায় ফেরে উজবেকিস্তান; গোলটি করেন খুজায়েভা মাদিনাবোনু।
 

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি আবারও এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ২৪তম মিনিটে কনা আক্তারের দারুণ ফিল্ড গোল দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়, যা নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার ধরে রাখে বাংলাদেশ। ৪০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আইরিন আক্তার রিয়া ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করেন। যদিও ৪৬তম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে একটি গোল শোধ করে উজবেকিস্তান ব্যবধান কমায়, তবে শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান আইরিন আক্তার রিয়া।

দুই ম্যাচ শেষে পুল ‘এ’-তে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বেশ শক্ত। প্রথম ম্যাচে ড্র থেকে পাওয়া ১ পয়েন্টের সঙ্গে এই জয়ের ৩ পয়েন্ট যোগ হয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪।

পুল পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী পরশু হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জয় বা ড্র করতে পারলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি এশিয়ান গেমসে জায়গা করে নেওয়ার পথও খুলে যাবে অর্পিতা-আইরিনদের জন্য।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page