সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয়ই নাহিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয়কেই বড় করে দেখেন নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়ার পর এমনটাই জানিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ভিন্ন দুই রূপে দেখা গেল নাহিদকে। প্রথম ম্যাচে ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

তবে সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘দেখেন, প্রতিটি দিন এক রকম যায় না।

আগের ম্যাচটা আমার জন্য ভালো দিন ছিল না, আমার দিন ছিল না। আমি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি।
আজকে সব কিছুই ঠিকঠাক হয়েছে।’ 

নিজের বোলিং নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে উইকেট ভালোই ছিল, কিন্তু আমি ঠিকভাবে এক্সিকিউট করতে পারিনি। তাই ভালো বোলিং হয়নি। এই ম্যাচে আগের ভুলগুলো থেকে শিখে ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, সেটা কাজে লেগেছে।’

এই ম্যাচে শুরু থেকেই ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে কিউই ব্যাটারদের চাপে রাখেন নাহিদ। পুরো ইনিংসজুড়ে রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি।

টানা গতিময় বোলিংয়ের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করি দলের জন্য ইমপ্যাক্টফুল পারফরম্যান্স দিতে। সেটা একটা স্পেল হতে পারে, এমনকি একটা ওভারও হতে পারে। যদি একটা ওভার দিয়েই দলকে জেতাতে পারি, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টি। আমার কাছে উইকেটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি দলকে জেতাতে পারছি কিনা।’

নাহিদের পাঁচ উইকেটই এসেছে দুর্দান্ত গতির বলে। তার নেওয়া পাঁচ উইকেটের ডেলিভারির গতি ছিল ১৪৪.৭, ১৪৬.৮, ১৪৬.১, ১৪৪.১ ও ১৪১.৬ কিলোমিটার। ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার নেন তিনি। এর আগে পাকিস্তান সিরিজেও পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন।

দুটি ফাইফারের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, ‘সব উইকেটই আমার কাছে স্পেশাল। একজন বোলারের কাছে কম-বেশি বলে কিছু নেই। দলের জন্য ইমপ্যাক্টফুল পারফরম্যান্স করতে পারাটাই আসল, সেটাই আমাকে বেশি আনন্দ দেয়।’

পেসারদের ইনজুরি ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ বলেন, ‘ইনজুরি আসলে কখনো বলা যায় না। এটা হঠাৎ করেই আসে। আমি মনে করি, আপনি যদি যুদ্ধে নামেন, তাহলে গুলি লাগার ভয় তো থাকেই—ঠিক তেমনই ক্রিকেট খেললে ইনজুরি হবেই, এটা স্বাভাবিক। আসল বিষয় হলো সেটা ম্যানেজ করা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের বিসিবিতে ফিজিও ও ট্রেনার আছেন, যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট খুব ভালোভাবে দেখেন। কোন সিরিজে কয়টা ম্যাচ খেলব, কার ওপর কতটা চাপ থাকবে—এগুলো তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখেন।’

দলের পেস আক্রমণের সমন্বয় নিয়েও কথা বলেন নাহিদ, ‘মাঠে আমরা পেসাররা একে অন্যকে ইনফরমেশন দিই। কে কোন জায়গায় ভালো বল করছে, কী করলে ব্যাটসম্যানকে চাপে রাখা যায়..এই বিষয়গুলো আমরা শেয়ার করি, যাতে দল হিসেবে আরও ভালো করা যায়।’

চাপের পরিস্থিতিতে নিজের মানসিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি এবং সেটা উপভোগ করি। আলাদা করে কোনো চাপ অনুভব করিনি, শুধু ম্যাচটা উপভোগ করে দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছি।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page