সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

নাহিদ রানার গতিতে বিধ্বস্ত নিউজিল্যান্ড, স্বীকারোক্তি নিক কেলির

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারের পর নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার নিক কেলি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উইকেটের আচরণ ও রানার গতিই মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের মধ্যে।

কেলির মতে, প্রথম ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচের উইকেটে ছিল বেশি ঘাস, যা বোলারদের বাড়তি সহায়তা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘উইকেটে কিছুটা বেশি ঘাস ছিল, শুরুতে আমাদের সময় নিতে হয়েছে।

কিন্তু আমরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়েছি। যখনই একটা জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি, তখনই উইকেট পড়ে গেছে।
’ 

নাহিদ রানার বোলিং নিয়ে আলাদা করে কথা বলেন কেলি। তিনি আরও বলেন, ‘সে খুবই রোমাঞ্চকর একজন তরুণ বোলার।

দারুণ গতিতে বল করে এবং আজ উইকেটটাও তাকে সাহায্য করেছে। ১৪৫-১৪৮ কিলোমিটার গতিতে সুইং করাতে পারা সহজ নয়।’ 

ম্যাচে রানার বোলিংয়ের ধরন নিয়েও বিশ্লেষণ করেন এই কিউই ব্যাটার। তিনি মনে করেন, আগের ম্যাচের তুলনায় এবার রানা আরও বেশি স্টাম্পে আক্রমণ করেছেন এবং বাউন্স ও গতির ভিন্নতা কাজে লাগিয়েছেন।

কেলি বলেন, ‘সে বল হাতে আসার পর থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয়। কোনো ‘ওয়ার্ম-আপ’ ডেলিভারি নেই। প্রথম বল থেকেই সে গতিতে আঘাত করেছে।’

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে মাঝের ওভারে গড়ে ওঠা দুটি জুটি ভেঙে দেন নাহিদ রানা, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে কেলি বলেন, ‘সে একজন উইকেট-টেকার। ছোট ছোট স্পেলে এসে দ্রুতগতিতে বল করে এবং ম্যাচে প্রভাব ফেলে। আজ সে সেটাই করেছে।’

২০০ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠে নামা নিউজিল্যান্ড শুরুতে লড়াইয়ের আশা দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি বলে মনে করেন কেলি। তার ভাষ্য, ‘আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করি যে আমাদের দ্বারা সম্ভব। তবে বাস্তবতা হলো, ২৪০-২৫০ রান দরকার ছিল। বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে এবং আমাদের চাপে ফেলেছে।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page