সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন

ফের টস হারলো বাংলাদেশ, আফিফের বদলে একাদশে সৌম্য

প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস হেরেছে বাংলাদেশ। সফরকারী নিউজিল্যান্ড টস জিতে আবারও ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ মিরপুরে শুরু হওয়া ম্যাচের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বাদ দেওয়া হয়েছে মিডল অর্ডার ব্যাটার আফিফ হোসেনকে।

তার জায়গায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে সৌম্য সরকারকে। 

এছাড়া মোস্তাফিজের ফেরার কথা থাকলেও শেষ মুহুর্তে তাকে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে।

মূলত চোটের কারণে বাড়তি সতর্কতায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগের তিন পেসার নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিনকে নিয়েই একাদশ সাজানো হয়েছে।
 

এদিকে গত চার ম্যাচে দলের অংশ থাকলেও একাদশে সুযোগ হয়নি সৌম্যর। অবশেষে মিডল অর্ডারে সুযোগ হলো বাঁহাতি এই ব্যাটারের। পুরো ক্যারিয়ারে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করেছেন সৌম্য। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে মিডল অর্ডারে কতটা সফল হবেন, সেটাই এখন দেখার!

আগের মাচে ব্যাটিং বিভাগে ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ। সিরিজ হার ঠেকাতে আজকের ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। ম্যাচটি নিজেদের করে রাখতে হলে ব্যাটিংয়ে ভালো করার বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page