সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন

দুটো ‘বড় দেশ’ ভেটো দেওয়ায় চাকরি হচ্ছে না বুলবুলের

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত বছরের মে মাসে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ১৬তম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে হঠাৎ করেই আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ১১ সদস্যের একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে।

সেই কমিটির নেতৃত্বে আনা হয় তামিম ইকবালকে। 

এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত দায়িত্ব হারান আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে তার বিসিবি সভাপতির দুই দফার অধ্যায়ের ইতি ঘটে। 

রবিবার প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রস্তাব তার কাছে এসেছিল।

কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালী দুটি দেশের আপত্তি বা ভেটোর কারণে সেই সুযোগটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। 

তিনি বলেন, ‘একটা বড় চাকরির সুযোগ এসেছিল এসিসিতে। কিন্তু দুটো বড় বড় দেশ সেখানে ভেটো দিয়েছে। সেটা আর হয়তো হবে না।’



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page