সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন

চ্যাম্পিয়ন কোচকেই ছেঁটে ফেলল মোহামেডান, ডাগআউটে সেন্টু

গত মৌসুমে ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে যিনি ছিলেন সমর্থকদের চোখের মণি, এক মৌসুম পার না হতেই সেই আলফাজ আহমেদকেই বিদায় করে দিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) টানা ব্যর্থতা এবং রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি শেষমেশ তাদের প্রধান কোচকে বরখাস্ত করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই রদবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মৌসুমের বাকি পথটুকু পাড়ি দিতে আলফাজের শূন্যস্থানে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে ডাগআউট সামলাবেন সহকারী কোচ আব্দুল কায়ুম সেন্টু।

আর ফুটবল দলের সার্বিক দেখভালের জন্য টিম লিডারের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্লাবের স্থায়ী সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবুকে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, দলের ধারাবাহিক অবনতি ঠেকাতে এবং পুনরায় সাফল্যের ধারায় ফিরতেই বোর্ড এই রদবদল করতে বাধ্য হয়েছে।
 

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বর্তমান অবস্থা কতটা নাজুক, তা পয়েন্ট টেবিল দেখলেই স্পষ্ট হয়। ১০ দলের লিগে ১২ ম্যাচ শেষে মাত্র ১১ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান এখন সপ্তম স্থানে ধুঁকছে।

অবনমন শঙ্কা বা রেলিগেশন জোন থেকে তারা মাত্র ২ পয়েন্ট দূরত্বে অবস্থান করছে। সবশেষ কুমিল্লায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে শুরুতে লিড নিয়েও ২-১ গোলে হারতে হয়েছে তাদের। লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচ ধরে জয়হীন সাদা-কালো শিবির। 

লিগের পাশাপাশি ফেডারেশন কাপেও খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে দলটি। ‘বি’ গ্রুপে ৩ ম্যাচ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে তারা। টুর্নামেন্টের প্লে-অফে জায়গা করে নিতে হলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই সেন্টুর শিষ্যদের সামনে।

অথচ এই আলফাজ আহমেদের হাত ধরেই ২০২৩ সালে পুনর্জাগরণ হয়েছিল মোহামেডানের। তাঁর জাদুকরী ছোঁয়ায় দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময়ের লিগ শিরোপার আক্ষেপ ঘুচিয়েছিল সাদা-কালোরা। একই বছরে চিরশত্রু আবাহনীকে হারিয়ে ঘরে তুলেছিল ফেডারেশন কাপের ট্রফিও। কিন্তু ফুটবলের নিষ্ঠুর নিয়মে অতীত সাফল্যের চেয়ে বর্তমানের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায়ভারই শেষ পর্যন্ত কাল হলো এই দেশীয় কোচের জন্য।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page