সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

পিএসএলে শরিফুল-নাহিদের অনাপত্তিপত্রের মেয়াদ বাড়াল বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় দলের দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) একদিন বাড়িয়েছে। ফলে তারা চলমান পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এ আরও একটি ম্যাচ বেশি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিসিবির এই সিদ্ধান্ত এসেছে তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমি এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে।

এর আগে শরিফুল ও নাহিদের এনওসি ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা ১৩ এপ্রিল পেশোয়ার জালমির হয়ে নির্ধারিত পিএসএল ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারবেন। 

ম্যাচ শেষে ১৪ এপ্রিল দেশে ফিরবেন এই দুই পেসার।

এরপরই তারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। 

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৭ এপ্রিল, একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ ২০ তারিখ।

 

২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে হবে তৃতীয় ওয়ানডে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচও হবে এই মাঠে, ২৭ ও ২৯ এপ্রিল। এরপর দুই দল ঢাকায় ফিরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলবে ২ মে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের বাংলাদেশ দল:

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।



মিরপুরে আবারও বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দ্বৈরথ। প্রায় দেড় বছর পর ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সেই পাকিস্তান। যাদের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জিতেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে দুই শিবিরেই। শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী কাল সকাল ১০টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দুই দলই আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে। পাকিস্তান অবশ্য ‘প্রতিশোধ’ শব্দটিকে সামনে আনতে চায় না। অধিনায়ক শান মাসুদ স্পষ্ট করেছেন, তাদের লক্ষ্য শুধুই ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সিরিজের অতীত নয়, বরং পাঁচ দিনে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই টেস্টে বড় আলোচনার জায়গা হয়ে উঠতে পারে দুই দলের পেস আক্রমণ। পাকিস্তানের শক্তি বরাবরই তাদের ফাস্ট বোলিং ইউনিট। শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাসদের অভিজ্ঞতা ও নতুন বলের নিয়ন্ত্রণ সফরকারীদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে বাংলাদেশও এখন আর আগের মতো কেবল স্পিননির্ভর দল নয়। তাসকিন আহমেদ দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরেছেন। যদিও নাহিদ রানা পুরোপুরি ফিট নন এবং ইবাদত হোসেনও সেরা ছন্দে ফেরার প্রক্রিয়ায় আছেন, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেস বিভাগ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিরপুরের উইকেট নিয়েও আগ্রহ কম নেই। সাধারণত এই মাঠ ধীরে ধীরে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। তবে এবার উইকেটে ঘাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেতে পারেন। সে কারণেই বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পিন বিভাগে মেহেদী মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বড় ভরসা বাবর আজম। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরেই সফরকারীদের পরিকল্পনা থাকবে। এছাড়া অফ-স্পিনার সাজিদ খনও হতে পারেন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলে নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় আছেন তানজিদ তামিম। একাদশে সুযোগ পেলে তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতেই চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। আবহাওয়াও ম্যাচের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাঁচ দিনের টেস্টে অন্তত দুই দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উইকেটের আচরণ ও সেশনভিত্তিক পরিকল্পনা দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান চাইবে নিজেদের পুরনো শক্তির পরিচয় ফিরিয়ে দিতে। তাই মিরপুর টেস্টে ব্যাট-বলের জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকছেই।

Our Like Page