তিনি বলেন, এর অর্থ কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়; বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ওই সময়ের পর দেশ নতুন পথে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তনশীল। একক শক্তির আধিপত্য কমছে এবং বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও কৌশলগত, পেশাদার ও নমনীয় হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, অতীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেক সময় কৌশলগত না হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছিল। গত দুই দশকে দেশ একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ফলে কূটনৈতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন পররাষ্ট্রনীতির তিনটি মূল দিক হবে-কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নীতি নয়, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় নমনীয়তা।
পররাষ্ট্রনীতি স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হতে হবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার।
তিনি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পাঁচটি প্রধান স্তম্ভও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতি।
জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।