২০২৪ সালে কারা অধিদপ্তর বাংলাদেশ পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদকের আদলে কারারক্ষীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে জেল পদক চালুর প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।
এদিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস-এ রোববার (১০ মে) পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশ-এর সাহসিকতা ও বিশেষ সেবার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) ও পিপিএম (রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক)। সাহসিকতা ও সেবা-এই দুই ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হয়।
পিপিএম ও বিপিএমপ্রাপ্তরা পদকের পাশাপাশি সম্মানী অর্থ পেয়ে থাকেন। এছাড়া পদকের কারণে প্রতি মাসে নির্ধারিত ভাতাও দেওয়া হয়।
পুলিশ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। অন্যদিকে জেল পুলিশ বা কারারক্ষীরা বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের নিরাপদে আটক রাখা, তাদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুনর্বাসনে দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশ অপরাধ দমন ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনে, আর জেল পুলিশ সেই অপরাধীকে কারাগারে হেফাজতে রেখে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কারাগারের ভেতরে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, শীর্ষ অপরাধী ও ভয়ঙ্কর বন্দিদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কোনো সাধারণ দায়িত্ব নয়। প্রতিটি মুহূর্ত সেখানে ঝুঁকি, সতর্কতা ও কঠোর শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় কারারক্ষীদের। বন্দিদের চলাফেরা থেকে শুরু করে খাবার, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন সব কার্যক্রম নিয়মের মধ্যে রাখতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেন তারা।
২৪ ঘণ্টা শিফট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা কারারক্ষীদের জন্য এক মুহূর্তের অসতর্কতাও বড় ধরনের ঘটনার কারণ হতে পারে। কারণ বন্দিরা যেকোনো সময় সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা, হামলা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে-এমন মানসিকতা নিয়েই কারারক্ষীরা ডিউটি করে থাকেন। তাই ডিউটিরত অবস্থায় সর্বক্ষণ সতর্ক থাকতে হয় তাদের।
কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক প্রতিরোধ, বন্দিদের অপরাধমূলক তৎপরতা আগেই শনাক্ত করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কারারক্ষীদের বিভিন্ন সময় পুরস্কৃত করা হয়।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার-এ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কৃতী সন্তানদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দু-এক বছর আগে মৌলভীবাজার জেলা কারাগার-এর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে কারারক্ষী ফয়সাল আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম শিমুল ও মো. রোমান মিয়াকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। সব কারাগারেই দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ভালো কাজের জন্য কারারক্ষীদের পুরস্কৃত করে থাকেন।
কারারক্ষীরা সাধারণত নগদ অর্থ ও ক্রেস্টের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেলেও পুলিশের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মান বিপিএম-পিপিএম পদকের আওতায় এখনো আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব ও অবদানের তুলনায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন কারা বাহিনীর সদস্যরা।
এ ছাড়া দেশে ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রীয় কারাগার। বাকিগুলো জেলা কারাগার। ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি বন্দিকে কারাগারগুলোতে রাখা হয়। সারা দেশের কারাগারগুলোতে আনুমানিক ১৩ হাজার কারারক্ষী দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার (৯ মে) রাতে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ মোতাহার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, কারাগারের ভেতরে প্রশংসনীয় ও দায়িত্বশীল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কারারক্ষীদের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে। ভালো কাজের সম্মান জানাতে দেওয়া হয় কিছু নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট। তবে এই উদ্যোগ সরকারি ব্যয়ে পরিচালিত হয় না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে কারা অধিদপ্তর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদকের আদলে কারারক্ষীদের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ ‘জেল পদক’ চালুর প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনেই বাংলাদেশ পুলিশ ও জেল পুলিশ পরিচালিত হয়।
কারা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত জেল পদক সংক্রান্ত নথি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।