মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম

২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে আগামী ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে তিন মাসের জন্য মাছ আহরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও হ্রদের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করা, অবমুক্ত পোনার স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা।

বৈঠকে জানানো হয়, ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী তিন মাস বহাল থাকবে।

এই সময়ে হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ, বিপণন, পরিবহন ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। তবে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হবে, যাতে তারা এ সময়টিতে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
 

এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বৈঠকে সতর্ক করা হয়।

বিএফডিসি রাঙামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকেই হ্রদে মাছ আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। পরিস্থিতি ও পানির স্তরের ওপর নির্ভর করে আগামী ৩১ জুলাই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ভ্রাম্যমাণ টিম তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।



Our Like Page