মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম

ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয়ই নাহিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের জয়কেই বড় করে দেখেন নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়ার পর এমনটাই জানিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ভিন্ন দুই রূপে দেখা গেল নাহিদকে। প্রথম ম্যাচে ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

তবে সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘দেখেন, প্রতিটি দিন এক রকম যায় না।

আগের ম্যাচটা আমার জন্য ভালো দিন ছিল না, আমার দিন ছিল না। আমি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি, কিন্তু হয়নি।
আজকে সব কিছুই ঠিকঠাক হয়েছে।’ 

নিজের বোলিং নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে উইকেট ভালোই ছিল, কিন্তু আমি ঠিকভাবে এক্সিকিউট করতে পারিনি। তাই ভালো বোলিং হয়নি। এই ম্যাচে আগের ভুলগুলো থেকে শিখে ভালো জায়গায় বল করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, সেটা কাজে লেগেছে।’

এই ম্যাচে শুরু থেকেই ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে কিউই ব্যাটারদের চাপে রাখেন নাহিদ। পুরো ইনিংসজুড়ে রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি।

টানা গতিময় বোলিংয়ের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করি দলের জন্য ইমপ্যাক্টফুল পারফরম্যান্স দিতে। সেটা একটা স্পেল হতে পারে, এমনকি একটা ওভারও হতে পারে। যদি একটা ওভার দিয়েই দলকে জেতাতে পারি, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টি। আমার কাছে উইকেটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমি দলকে জেতাতে পারছি কিনা।’

নাহিদের পাঁচ উইকেটই এসেছে দুর্দান্ত গতির বলে। তার নেওয়া পাঁচ উইকেটের ডেলিভারির গতি ছিল ১৪৪.৭, ১৪৬.৮, ১৪৬.১, ১৪৪.১ ও ১৪১.৬ কিলোমিটার। ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার নেন তিনি। এর আগে পাকিস্তান সিরিজেও পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন।

দুটি ফাইফারের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, ‘সব উইকেটই আমার কাছে স্পেশাল। একজন বোলারের কাছে কম-বেশি বলে কিছু নেই। দলের জন্য ইমপ্যাক্টফুল পারফরম্যান্স করতে পারাটাই আসল, সেটাই আমাকে বেশি আনন্দ দেয়।’

পেসারদের ইনজুরি ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ বলেন, ‘ইনজুরি আসলে কখনো বলা যায় না। এটা হঠাৎ করেই আসে। আমি মনে করি, আপনি যদি যুদ্ধে নামেন, তাহলে গুলি লাগার ভয় তো থাকেই—ঠিক তেমনই ক্রিকেট খেললে ইনজুরি হবেই, এটা স্বাভাবিক। আসল বিষয় হলো সেটা ম্যানেজ করা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের বিসিবিতে ফিজিও ও ট্রেনার আছেন, যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট খুব ভালোভাবে দেখেন। কোন সিরিজে কয়টা ম্যাচ খেলব, কার ওপর কতটা চাপ থাকবে—এগুলো তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখেন।’

দলের পেস আক্রমণের সমন্বয় নিয়েও কথা বলেন নাহিদ, ‘মাঠে আমরা পেসাররা একে অন্যকে ইনফরমেশন দিই। কে কোন জায়গায় ভালো বল করছে, কী করলে ব্যাটসম্যানকে চাপে রাখা যায়..এই বিষয়গুলো আমরা শেয়ার করি, যাতে দল হিসেবে আরও ভালো করা যায়।’

চাপের পরিস্থিতিতে নিজের মানসিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি এবং সেটা উপভোগ করি। আলাদা করে কোনো চাপ অনুভব করিনি, শুধু ম্যাচটা উপভোগ করে দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছি।’



Our Like Page