শরিফুল: আলহামদুলিল্লাহ, এটা সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি। যার খেলা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়ে মাঠে নেমেছিলাম, আজ তার পাশেই বল করছিচ এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! এটা আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ কিছু।
বাংলানিউজ: গ্রামে তো বিদ্যুৎ বা টিভি ছিল না।
শরিফুল: অবশ্যই! আমি এখনো আগের মতোই আছি। গ্রামে গেলে সেই দোকানে বসি, চা খাই আর পাড়ার বড় ভাই-চাচাদের সঙ্গে আড্ডা দেই। তারা আমাকে আগের মতোই আদর করে, একজন সাধারণ মানুষের মতো করেই দেখে।
বাংলানিউজ: আপনাকে প্রায়ই গ্রামে ফুটবল বা ক্রিকেট নিয়ে মেতে থাকতে দেখা যায়। শেকড়ে ফিরে কতটা আনন্দ পান?
শরিফুল: আমি আসলে পুরোপুরি গ্রামের মানুষ। ঢাকা বা দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হয় পেশার প্রয়োজনে, কিন্তু গ্রামে ফিরলে আমি শান্তি খুঁজে পাই। এখানকার মাটির গন্ধ আমার খুব প্রিয়।
বাংলানিউজ: আপনার বাবা আপনাকে অনেক কষ্ট করে ১৮ কিলোমিটার দূরে বাসে তুলে দিতেন অনুশীলনের জন্য। এখন তার চোখে কতটা তৃপ্তি দেখেন?
শরিফুল: আমার আজকের এই অবস্থানের পেছনে বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। তার সাপোর্ট ছিল অবিশ্বাস্য। এখন তিনি আমাকে নিয়ে খুব গর্ব করেন। আমি মনে করি, প্রত্যেক বাবার উচিত সন্তানের স্বপ্নের পাশে এভাবে দাঁড়ানো, এতে সন্তান অনেক বড় অনুপ্রেরণা পায়।
বাংলানিউজ: একজন কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক তারকা হওয়া নিশ্চয়ই সহজ ছিল না…
শরিফুল: আমি গর্ব করে বলি যে আমার বাবা একজন কৃষক। তিনি এখনো কাজ করেন এবং সুযোগ পেলে আমিও তাকে সাহায্য করি। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, আর আমাদের দেশের অনেক সফল মানুষই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। আমি চাই কৃষক পরিবারের ছেলেরা আরও বড় স্বপ্ন দেখুক এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করুক।
বাংলানিউজ: এখন আপনার বাড়ি-গাড়ি সবই হয়েছে। এই বিশাল পরিবর্তনকে কীভাবে দেখেন?
শরিফুল: মাঝে মাঝে এখনো স্বপ্নের মতো মনে হয়। তবে এটা আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি, তাই সবকিছুই এখন ভালো লাগছে।
বাংলানিউজ: ফর্মে থাকার পরও অনেক সময় টিম কম্বিনেশনের কারণে একাদশে সুযোগ হয় না। এটা কি মানসিকভাবে চাপে ফেলে?
শরিফুল: না, আমি এটাকে এভাবে দেখি না। টিম ম্যানেজমেন্ট দলের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমি সেটাকে সম্মান করি। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ আমার রিজিকে যা রেখেছেন তা সময়মতোই পাব। তাই দুশ্চিন্তা না করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকি।
বাংলানিউজ: বর্তমানে বাংলাদেশের পেস ইউনিট দারুণ শক্তিশালী। আপনাদের মধ্যে কি কোনো রেষারেষি কাজ করে?
শরিফুল: মোটেও না। আমাদের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রতিযোগিতা নেই। আমরা সবাই একে অপরকে সাহায্য করি এবং সবাই যেন ফিট থাকে সেই দোয়া করি। তবে হ্যাঁ, দলে টিকে থাকার জন্য একটা স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা অবশ্যই আছে, যা আমাদের উন্নতি করতে সাহায্য করে।
বাংলানিউজ: ক্যারিয়ার শেষে কত উইকেটের মালিক হতে চান?
শরিফুল: উইকেটের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। যতদিন ফিট থাকব, দেশের জন্য খেলে যাব। যেদিন ক্যারিয়ার শেষ করব, সেদিন দেখা যাবে ঝুলিতে কত উইকেট জমা হলো।
বাংলানিউজ: ডেথ ওভারে আপনার উন্নতি চোখে পড়ার মতো। এর রহস্য কী?
শরিফুল: টেকনিক, ফিটনেস এবং মেন্টালিটি; এই তিনটির সমন্বয়। বর্তমানে আমি অ্যাকুরেসি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। বিশেষ করে মোস্তাফিজ ভাই আমাকে কিছু নতুন গ্রিপ শিখিয়েছেন, যা অনুশীলনে বেশ কাজে দিচ্ছে।
বাংলানিউজ: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাকে বোলিং করতে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়?
শরিফুল: আমি কাউকেই বল করতে ভয় পাই না। তবে দেশীয় ক্রিকেটে আমাদের দুই কিংবদন্তি মুশফিক ভাই ও মুমিনুল ভাইকে বল করা বেশ কঠিন। তাদের বিপক্ষে লেন্থ অ্যাডজাস্ট করাটা আমার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়।
বাংলানিউজ: পিএসএল-এ সুযোগ পেয়েছেন, সামনে আইপিএল নিয়ে কোনো স্বপ্ন আছে?
শরিফুল: পিএসএল-এ সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। দেশের মানুষ আমাদের খেলা দেখবে, এটা গর্বের বিষয়। আর আইপিএল বা অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কথা বললে, আমি যদি স্বাভাবিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারি এবং নিজেকে প্রমাণ করতে পারি, তবে সুযোগ একসময় না একসময় আসবেই। আমি বাড়তি চাপ না নিয়ে প্রক্রিয়া ঠিক রাখায় বিশ্বাসী।