বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
৩ টাকার কলমে স্বপ্ন: ‘ইকনো কামাল’-এর গল্প,ব্যবসা থেকে রাজনীতির উত্থান শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি: ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক পেরিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ‘শান্তির খোঁজ’ প্লাস্টিক সার্জারি বিতর্কে মুখ খুললেন কেয়া পায়েল: “ভক্তরা মেনে নিতে পারেনি” দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে শবনম বুবলী অভিনীত ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ অবরোধের মধ্যেও ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো: ফ্লাইট চালু, তেল আয়ে উল্টো বৃদ্ধি হরমুজ সংকটের ছায়ায় নতুন বাণিজ্যপথ: ইউরোপমুখী বিকল্প করিডোরে জোর দিচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক মিডফোর্ট হাসপালের হিসাব রক্ষক জাহিদুর রহিম খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু :দুদকের তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

 মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে নাড়া দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও, যেখানে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির ধারা থমকে গেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য নির্ধারিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলারেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, তা ধীরে ধীরে বেড়ে ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার উচ্চমাত্রার সঙ্গে তুলনীয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছে, তা গ্রহণে ওয়াশিংটনের অনীহা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই অচলাবস্থার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও পড়ছে। দেশটির অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, “সময় এখন আর কারো পক্ষেই নেই। ইউরোপীয় দেশগুলো ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে।”

জার্মান চ্যান্সেলরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে—এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের চাপের মুখে রয়েছে। অনেক মিত্রই মনে করছে, বর্তমান সংকট সমাধানে ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে এবং এটি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্রমেই কিছু মিত্র দেশের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এক রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিলাসবহুল সুপারইয়ট ‘নর্ড’ সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অতিক্রম করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৪২ মিটার দীর্ঘ এই ইয়টটি দুবাই থেকে যাত্রা করে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছায়। প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের এই নৌযানটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা ভিন্ন নামে নিবন্ধিত।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে আগের তুলনায় কম জাহাজ চলাচল করছে। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



Our Like Page