শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একই পরিবারের চার প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন কুতুবদিয়া দ্বীপ সংকটে: ভাঙনে হারাচ্ছে ভূমি, ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণের জরুরি দাবি ৩ টাকার কলমে স্বপ্ন: ‘ইকনো কামাল’-এর গল্প,ব্যবসা থেকে রাজনীতির উত্থান শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি: ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক পেরিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ‘শান্তির খোঁজ’ প্লাস্টিক সার্জারি বিতর্কে মুখ খুললেন কেয়া পায়েল: “ভক্তরা মেনে নিতে পারেনি” দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে শবনম বুবলী অভিনীত ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ অবরোধের মধ্যেও ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো: ফ্লাইট চালু, তেল আয়ে উল্টো বৃদ্ধি হরমুজ সংকটের ছায়ায় নতুন বাণিজ্যপথ: ইউরোপমুখী বিকল্প করিডোরে জোর দিচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক মিডফোর্ট হাসপালের হিসাব রক্ষক জাহিদুর রহিম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একই পরিবারের চার প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে একই পরিবারের চারজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সদস্য দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। জরাজীর্ণ ঘর, খাদ্য সংকট এবং উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় তাদের দিন কাটছে মানবেতর অবস্থায়।

সরেজমিনে যা দেখা গেছে

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটির বসবাস একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘরে। মরিচা ধরা টিনের চালের বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি সরাসরি ঘরের ভেতরে পড়ে। ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র বলতে রয়েছে একটি মাত্র কাঠের চৌকি, যেখানে চারজন সদস্য গাদাগাদি করে বসবাস করেন।

পরিবারটির সদস্যরা হলেন— আতিয়ার মোল্লা (৪২), তার স্ত্রী রহিমা বিবি (৩৯), এবং তাদের দুই সন্তান আশা আক্তার (২০) ও মো. বাদল মোল্লা (১৬)। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বোঝা যায়, তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বা প্রশ্ন বুঝতে সক্ষম নন।

পরিবারের বক্তব্য

আতিয়ারের বৃদ্ধ পিতা আকবর মোল্লা জানান, তার ছেলে জন্ম থেকেই শ্রবণ ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ভবিষ্যতে স্বাভাবিক হওয়ার আশায় তিনি তাকে বিয়ে করান। কিন্তু পরে জানা যায়, পুত্রবধূ রহিমা বিবিও একই ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। তাদের দুই সন্তানও একই অবস্থায় জন্ম নেয়।

প্রতিবেশীদের অভিজ্ঞতা

স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম জানান, পরিবারের কেউই কর্মক্ষম নয়। ফলে কোনো কাজও পায় না তারা। প্রতিবেশীদের সহায়তায় যে খাবার জোটে, তা দিয়েই কোনোভাবে বেঁচে আছেন চারজন।

স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগ

স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন,
“পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের উপার্জনের কোনো সুযোগ নেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।”

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাস জানান,
“পরিবারটির দুরাবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ঘর মেরামতের জন্য টিন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”

তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সহায়তার আহ্বান

এই অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে আগ্রহীরা আতিয়ারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নারগিস পারভীনের সঙ্গে ০১৯৫৪১৩৮৪০৬ (বিকাশ পার্সোনাল) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।



Our Like Page