বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, দুর্গম অঞ্চলগুলোতে র্যাম পাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পাম্প পরিচালনায় বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে না।
র্যাম পাম্প সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীনভাবে কাজ করতে সক্ষম। এটি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচের পানিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরের বসতিগুলোতে পৌঁছে দিতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি হতে যাচ্ছে একটি টেকসই ও কার্যকর সমাধান।
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বান্দরবানের চিম্বুক, আলীকদম উপজেলার দুর্গম জনগোষ্ঠীর বসতি এবং থানচি উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়াগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী মাসে প্রকল্প পরিচালকসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে স্থান পরিদর্শন করবেন।
দুর্গম অঞ্চল চিম্বুকের বাসিন্দা মেনরুম ম্রো জানিয়েছেন, র্যাম পাম্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বহু বছরের পানির দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং দুর্গম পাহাড়ে গড়ে উঠবে স্বস্তির নতুন অধ্যায়। এই উদ্যোগে পানি সংকট নিরসন হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সমস্যা। বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে পাম্পগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। র্যাম পাম্প হলো বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ছাড়া প্রবাহিত পানির নিজস্ব গতিশক্তি ব্যবহার করে পানিকে উঁচুতে তোলার একটি বিশেষ পাম্প। এটি একটি যান্ত্রিক পাম্প, যা পানির ‘ওয়াটার হ্যামার’ প্রভাব কাজে লাগিয়ে বড় অংশের পানি নিচে প্রবাহিত করে এবং ছোট অংশের পানি পাহাড়ের অনেক উপরে তুলে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এটি চলার জন্য কোনো বিদ্যুৎ, ডিজেল বা পেট্রোলের প্রয়োজন হয় না। এটি প্রবাহিত পানির গতিশক্তিকে ব্যবহার করে, যেখানে একটি ভালভ বন্ধ হওয়ার ফলে তৈরি হওয়া চাপ পানিকে উচ্চ স্থানে ঠেলে দেয়। নদী, ঝরনা বা পাহাড়ের ঢালে যেখানে পানির প্রবাহ আছে, সেখানে এটি ব্যবহারের জন্য উপযোগী। এটি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যন্ত কম, দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা ও সুপেয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।