শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

দেশে ফিরলেন ইরানের নারী ফুটবলাররা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ইরানে ফিরেছেন দেশটির নারী জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা।

বুধবার মালয়েশিয়া, ওমান ও ইস্তাম্বুল হয়ে তুরস্কের গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে তারা ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। তাদের স্বাগত জানাতে তেহরানে বড় ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইরানের জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় নীরব থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ফুটবলাররা।

এই ঘটনাকে দেশটির নেতৃত্বের প্রতি অবাধ্যতা হিসেবে দেখা হয়। 

এরপর গত ১০ মার্চ ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচজন খেলোয়াড় হোটেলের নিরাপত্তা এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। পরবর্তীতে আরও একজন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফসহ মোট সাতজন এই তালিকায় যুক্ত হন।

এই ঘটনা নিয়ে ইরান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়।

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, দলত্যাগী খেলোয়াড়দের দেশে থাকা পরিবারগুলোর ওপর ইরান সরকার প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং তাদের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। 

অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে অস্ট্রেলিয়া তাদের অ্যাথলেটদের দলত্যাগ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে কয়েক দিন ধরে তাদের সঙ্গে গোপন আলোচনা চালিয়েছিল সরকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি ফুটবলারদের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচজন সদস্য তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

তবে দুজন সদস্য এখনও অস্ট্রেলিয়ায় রয়ে গেছেন। অবশিষ্ট সদস্যরা দীর্ঘ যাত্রা শেষে বুধবার দেশে পৌঁছান। 

ইরানি সংবাদ সংস্থা ‘মেহের’-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সীমান্তে পতাকা হাতে একটি ছোট দল তাদের স্বাগত জানাচ্ছে। সেখানে উপস্থিত ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজ বলেন, ‘তারা নারী হলেও পুরুষোচিত সাহস ও শক্তি দেখিয়েছেন। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাতে এখানে জড়ো হয়েছি।

’ 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ফুটবলারদের “স্বদেশের সন্তান” হিসেবে অভিহিত করে লিখেছেন, তারা ফিরে আসার মাধ্যমে শত্রুদের হতাশ করেছেন এবং ইরান-বিরোধী উপাদানগুলোর প্রলোভন ও হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেননি।

যদিও সরকারিভাবে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হচ্ছে, তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশে থাকা অ্যাথলেটদের পরিবারকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ভয় দেখিয়ে চাপে রাখে।

উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একজন উপস্থাপক এই খেলোয়াড়দের ‘যুদ্ধের সময়ের বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের ওপর দমন-পীড়নের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অধিকার কর্মীরা।

আজ বৃহস্পতিবার তেহরানের ভালি আসর স্কয়ারে তাদের জন্য বড় পরিসরে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।



Our Like Page