মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-কে ঘিরে চলমান সংঘাত যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো কার্যত নীরব অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সমালোচনা সত্ত্বেও জোটটি প্রকাশ্যে কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না। অন্যদিকে জার্মানি স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্স বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান সংকটে ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সম্প্রতি নরওয়ে সফরকালে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি সচল রাখা জরুরি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি, যা ন্যাটোর সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ন্যাটোকে সরাসরি এই সংঘাত থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন মার্ক রুটে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প বলেছেন, এই সংঘাত ন্যাটোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
তবে বাস্তবতা হলো, ইউরোপকে পাশে ছাড়া এই যুদ্ধ পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ নয়।
চ্যান্সেলর মার্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করা জার্মানির পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পথকেও সমর্থন করেন না। বরং তিনি সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
এদিকে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন বৈঠকেও ইরান ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর ভেতরেও এখন একটি বড় প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাইলে সদস্য দেশগুলো কী অবস্থান নেবে? বিশেষ করে তুরস্কের মতো দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ যেন দুই দিক থেকে চাপে পড়েছে, একদিকে ইউক্রেন সংকট, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। এই প্রেক্ষাপটে জার্মানি জোর দিচ্ছে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ গঠনের ওপর।
সব মিলিয়ে, ন্যাটোর নীরবতা ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেই জার্মানির বার্তা স্পষ্ট, আর তা হচ্ছে সংঘাত নয়, বরং ঐক্যই বর্তমান সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।