তাকে অনুসরণ করে এবার মামুন হোসেন নামে আরও এক ব্যবসায়ী ১ টাকা লাভে ইফতারসামগ্রী বিক্রি শুরু করছেন। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র শ্রেণির মানুষ।
রমজান মাসে বড় ব্যবসায়ীদের প্রতি খাদ্যপণ্যের মূল্য না বাড়িয়ে সহনশীল রাখার আহ্বান এই দুই ব্যবসায়ীর।
সরেজমিন এই দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় তাদের এমন মানবিক উদ্যোগ নিয়ে। উপজেলার নয়ারহাট বাজারের পশ্চিম এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন। তিনি এ বছর প্রথম ১ টাকা লাভে বিক্রি করছেন ইফতারসামগ্রী। পুরো রমজান জুড়েই এই দামে বিক্রি হবে পণ্য।
তার দোকানে আসা ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার এই উদ্যোগে আমরা উপকৃত। আমার মতো অনেক দিনমজুর কম দামে পণ্য কিনতে পারবে।
খলিলুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, মেয়ের বাড়িতে ইফতারসামগ্রী দেওয়ার জন্য সবকিছুই ক্রয় করতে হয়েছে। দাম কম রাখায় আমার জন্য সুবিধা হয়েছে।
ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, রমজান মাসে আমাদের ব্যবসায়ীরা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে। কিন্তু আমার চিন্তা হলো দাম কমালে সবাই ক্রয় করতে পারবে। এছাড়া আমি দুবাইতে ছিলাম। সেখানে ইফতার ফ্রি খাওয়ায়।
এদিকে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য চরকুমিরা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী শাহ আলম। তিনি গত ৪ বছর রমাজন উপলক্ষে ইফতারসামগ্রী ক্রয় মূল্যে বিক্রি করে আসছেন। প্রথম দুই বছর কেজি প্রতি ১টাকা লাভ করলেও গত দুই বছর ক্রয় মূল্যে বিক্রি করছেন। বাজার মূল্য থেকে ১ থেকে ২ টাকা কমে বিক্রি করেন ইফতারসামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে-চিনি, ছোলা, মসুর ও খেসারি ডাল, মুড়ি, চিড়া, খেজুর, সয়াবিন তেল, বেসন ইত্যাদি।
শাহ আলমের দোকানের ক্রেতা রানু বেগম জানান, তিনি এই দোকানের নিয়মিত ক্রেতা। রমজানে ইফতারসামগ্রী ক্রয়মূল্য রাখায় খুবই তিনি আনন্দিত। এই ব্যবসায়ীর উন্নতি কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত খান জানান, তার এই উদ্যোগে সব শ্রেণীপেশার লোকজন উপকৃত হয়েছে। গত ৪ বছর আগে তিনিই সর্বপ্রথম ইফতারসামগ্রী ১ টাকা লাভে বিক্রির উদ্যোগ নেন। তার এই কাজে গ্রামবাসীর সহযোগিতা আছে এবং থাকবে।
শাহ আলম বলেন, জানাজানি হওয়ার কারণে প্রবাসীরাও এখন যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে পরিবারের জন্য ইফতারসামগ্রী ক্রয় করছেন। তাদের এই ইফতারসমাগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশের বড় ব্যবসায়ীদের রমজান উপলক্ষে পণ্য মূল্য না বাড়িয়ে কমিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।