সম্প্রতি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আইসিসির হুমকির জবাবে সরাসরি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের উদাহরণ টেনেছেন।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একটি সংবাদ সম্মেলনে আইসিসির ‘হুমকি’ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নকভি বলেন, ‘আমি ভারত বা আইসিসি—কারও হুমকিতেই ভীত নই, পাকিস্তান সরকারও নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার সময় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষাপটে আসিম মুনিরকে দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করা হয়।
রাজনীতি ও ক্রিকেটের সংমিশ্রণ পাকিস্তানের ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়। এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংক্রান্ত বিতর্ক কিংবা এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে দেশটির অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটে বিতর্ক তৈরি করেছিল।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের অবস্থান থেকে সরে আসার ঘোষণাটি আসে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পক্ষ থেকে। লাহোরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে পিসিবি ও আইসিসির ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর পাকিস্তান সরকার তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।
পাকিস্তানের সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধ এবং ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান দল।
এদিকে আইসিসি বিবৃতিতে জানায়, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও, দেশটি এখনও ক্রিকেটের পূর্ণ সদস্য হিসেবে মর্যাদাশীল অবস্থানে রয়েছে। বিসিবি কেবল গর্বের ইতিহাসই ধারণ করে না, বরং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আইসিসি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিসিবি যদি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যেতে চায়, তাহলে সেই আবেদন করার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও মেনে নেওয়া হয়েছে। এই অধিকার আইসিসির বর্তমান নিয়মাবলীর অধীনে বিদ্যমান এবং অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতাও হয়েছে। ২০৩১ সালের ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে দেশের মাটিতে একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানান, ‘সমঝোতার অংশ হিসেবে চুক্তি হয়েছে, বাংলাদেশ ২০৩১ সালের পুরুষদের আইসিসি বিশ্বকাপের আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে। এটি আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজন প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। সিদ্ধান্তটি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এবং দেশে ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য অর্থপূর্ণ সুযোগ প্রদানের প্রতি আইসিসির প্রতিশ্রুতিকে জোরদার করে। আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবি এবং অন্যান্য সদস্যরা খেলাধুলার স্বার্থে সংলাপ, সহযোগিতা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’