বাংলাদেশের ব্যবসা ও রাজনীতির পরিসরে কাজী সালিমুল হক কামাল—যিনি ‘ইকনো কামাল’ নামেই বেশি পরিচিত—একটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। একটি সাধারণ বলপেনকে ঘিরে গড়ে ওঠা তাঁর উদ্যোগ পরবর্তীতে দেশের অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ডে রূপ নেয়, আর সেই পথ ধরেই তিনি পৌঁছে যান জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন কাজী সালিমুল হক কামাল। তাঁর পৈতৃক নিবাস মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে। পিতা কাজী আকরামুল হক। উচ্চশিক্ষা শেষে ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ/এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
চাকরির প্রচলিত পথ এড়িয়ে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৮১ সালে মহাখালীর একটি ছোট ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী সালমা হকের সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ। সীমিত সম্পদ দিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই বাজারে জায়গা করে নেয় ‘ইকনো’ বলপেন।
বিশেষ করে সাদা-কালো টেলিভিশনের যুগে প্রচারিত বিজ্ঞাপন—
“আব্বুর জন্য ইকনো, আম্মুর জন্য ইকনো”
—বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ইতিহাসে এক স্মরণীয় স্লোগান হয়ে ওঠে।
মাত্র ৩ টাকায় একটি মানসম্মত বলপেন সরবরাহের ধারণা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে এটি হয়ে ওঠে সাশ্রয়ী কিন্তু নির্ভরযোগ্য পণ্যের প্রতীক।
পরবর্তীতে তাঁর ব্যবসা বিস্তৃত হয়ে জিকিউ গ্রুপ ও ইকনো গ্রুপে রূপ নেয়। পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা রেনাল সেন্টার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, যা তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কাজী সালিমুল হক কামাল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মাগুরা-২ আসন থেকে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন—
তিনি একসময় মাগুরা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
একটি সাধারণ বলপেনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উদ্যোগ কীভাবে জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসা ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—কাজী সালিমুল হক কামালের জীবন সেই বাস্তব উদাহরণ।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবুও তাঁর তৈরি ‘ইকনো’ ব্র্যান্ড এখনও বাংলাদেশের বহু মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত—একটি সময়, একটি প্রজন্ম এবং সাশ্রয়ী উদ্ভাবনের প্রতীক হিসেবে।