বরগুনার আমতলী ও কলাপাড়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে জেলার একটি স্কুলে বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে ১১ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামের ৫৪ বছর বয়সী কৃষক নুরজামাল বৃষ্টির মধ্যে মাঠে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
পরে বুধবার বিকেলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী কৃষক খালেক হাওলাদার মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন হাসান সুমন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে একই দিনে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ১১ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— হাবিবা, জান্নাতি, ইয়াসমিন, মিম, ঐশী, রিয়া মনি, মনিরা, রুমি, কারিমা ও অন্যান্যরা।
শিক্ষকরা জানান, দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে বজ্রপাতের শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা মূলত বজ্রপাতের শব্দে ভীত হয়ে অসুস্থ হয়েছে, তবে তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।