ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঈদের নামাজের পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তারপর উপজেলা মাঠ পরিদর্শন করেন এবং মাঠ সংস্কারের জন্য দ্রুত নির্দেশ দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমগ্র দেশের মানুষকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক। এই পবিত্র দিনে আমরা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করি। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে কাজ করে আমাদের প্রিয় দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই। এটাই হোক আমাদের আজকের দিনের প্রকৃত আনন্দ।
তিনি সম্প্রতি গ্লোবাল সামিট অন ফ্রডে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, ফ্রড বা প্রতারণা বর্তমানে শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এই ধরনের অপরাধ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাই এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘গ্লোবাল সামিট অন ফ্রড’ আয়োজন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশ একত্রিত হয়ে এ বিষয়ে সম্মিলিত কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়।
এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা, বিভিন্ন ধরনের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং প্রতারণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। লক্ষ্য হলো-এই অপরাধগুলো যেহেতু সীমান্ত মানে না, তাই বৈশ্বিকভাবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এগুলো দমন করা।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ও চলমান ইস্যু। এ বিষয়ে আমরা সবসময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করি। বর্তমান সরকার এই সমস্যার টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমরা আশা করি, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যক্রমে অংশ নেবে। সর্বোপরি, এই দুটি বিষয়—বৈশ্বিক প্রতারণা প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন—আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য এবং আমরা সে লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।
এরপর মন্ত্রী সকাল ১০টার দিকে মোবারকিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন।
এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে গাড়িযোগে ঈদের নামাজ আদায়ে নিজ বাড়ি পেকুয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পৌঁছান। সকাল ৮টা থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন সাঈদ ম্যানশনে জড়ো থাকে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অবস্থান নেন নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষজন।