বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
৩ টাকার কলমে স্বপ্ন: ‘ইকনো কামাল’-এর গল্প,ব্যবসা থেকে রাজনীতির উত্থান শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি: ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক পেরিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ‘শান্তির খোঁজ’ প্লাস্টিক সার্জারি বিতর্কে মুখ খুললেন কেয়া পায়েল: “ভক্তরা মেনে নিতে পারেনি” দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে শবনম বুবলী অভিনীত ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ অবরোধের মধ্যেও ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো: ফ্লাইট চালু, তেল আয়ে উল্টো বৃদ্ধি হরমুজ সংকটের ছায়ায় নতুন বাণিজ্যপথ: ইউরোপমুখী বিকল্প করিডোরে জোর দিচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক মিডফোর্ট হাসপালের হিসাব রক্ষক জাহিদুর রহিম খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলী ফজলুল হক মধু :দুদকের তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

শেষ দিনে ভিড় আর স্বাদের উচ্ছ্বাস, পর্দা নামল আইসিসিবি পুরান ঢাকা ইফতার বাজারের

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্বাদের ঘ্রাণে মুখর ছিল চারপাশ। ধোঁয়া ওঠা কাবাব, ঘিয়ে ভাজা জিলাপি, মসলায় টইটম্বুর হালিম আর কালো ভুনার সুবাসে জমে উঠেছিল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণ। ক্রেতাদের ভিড়, বিক্রেতাদের ব্যস্ততা আর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার তাড়নার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পর্দা নামল ‘দশম আইসিসিবি পুরান ঢাকা ইফতার বাজার ২০২৬’-এর।

রমজানের শুরু থেকে চলা এ আয়োজনের শেষ দিনে অংশ নেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

বিকেল গড়াতেই গ্যালারি-৫ এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকে। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের নিয়ে ইফতার কিনতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের সামনে সবচেয়ে বেশি ভিড়। কেউ কাবাবের প্যাকেট হাতে, কেউ জিলাপির বাক্স, আবার কেউ হালিম নিয়ে ব্যস্তভাবে বের হচ্ছেন।

শিশুদের আগ্রহ মিষ্টির স্টলে আর বড়রা তালিকা মিলিয়ে শেষ দিনের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট পাঁচটি স্টলজুড়ে সাজিয়েছিল তাদের আয়োজন। রেশমি জিলাপি, মালাই জর্দা, তুর্কিশ নান, হোল চিকেন বারবিকিউ, চিকেন তন্দুরি, হারিয়ালি কাবাব, বিফ শেখ কাবাব, বিফ হান্ডি কাবাব ও কালো ভুনাসহ নানা পদে ছিল ভরপুর সম্ভার। 

হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের বিক্রেতা শাহরিয়ার নাফিজ বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে কাবাব আইটেম।

মালাই জর্দা, হালিম আর কাচ্চি তেহারিও ভালো গেছে। অনেকে অফিস শেষে সরাসরি এখানে চলে আসেন।’ 

পাশের রান্নাঘরে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাবুর্চিরা। কড়াইতে মাংস নাড়া, ওভেনে কাবাব ঢোকানো– সবমিলিয়ে যেন এক লাইভ কিচেন। বাবুর্চি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা অর্ডার অনুযায়ী গরম গরম খাবার দিই।

তাজা খাবার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য, তাই বিক্রি শেষ হলেই আবার তৈরি করি।’ 

banglanews24

আইসিসিবির সার্ভিস সুপারভাইজার দেলোয়ার হোসাইন জানান, তাদের চিকেন রেশমি কাবাব ক্রেতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। ‘বিশেষ মশলা আর ক্রিমের মিশেলে তৈরি বলেই এর স্বাদ আলাদা’, বলেন তিনি। তবে ইফতার বাজারের শেষ আয়োজনে মাত্র ২০ স্বাদের ইফতার বিক্রি করা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শেষ সময়ের কেনাকাটার জন্য সবাই ব্যস্ত। আমাদের অনেক কর্মীও ছুটিতে চলে গেছেন।

এ আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল ‘রসুই ঘর’। জিয়াউন নাহার সিঁথির এ স্টলে শেষ দিনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে ছানা জিলাপি ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে।

সিঁথি বলেন, ‘ছানা জিলাপিটা আমাদের বিশেষ আইটেম। অনেকেই প্রথমে অবাক হন, পরে খেয়ে আবার নিতে আসেন।’ তার স্টলে আরও ছিল চিকেন পুলি, চিকেন স্ট্রিপ, শাহী রোস্ট, কাবুলি পোলাও, দইবড়া ও গোলাপ জাম।

স্টল পরিচালনায় থাকা তার স্বামী মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘আমি চাকরি করি কিন্তু ওর রান্নার স্বাদ যেন আরও মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই ইচ্ছা থেকেই এখানে আসা। মানুষের সাড়া ভালো, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল সন্তুষ্টির ছাপ। রাজধানীর বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, ‘পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে এখানে আসা যায়। পরিবেশ পরিষ্কার, খাবারের মানও ভালো। শেষ দিনে এসে কিছু প্রিয় আইটেম নিয়ে গেলাম।’

আয়োজকদের দাবি, দশমবারের মতো আয়োজিত এ ইফতার বাজারে স্বাস্থ্যবিধি ও মান বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সঠিক সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা ছিল পুরো আয়োজনজুড়ে।

প্রথম রোজা থেকে শুরু হওয়া এ বাজার প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে ইফতার বিক্রি শুরু করে ২৭ রমজান পর্যন্ত চলেছে। শেষ দিনে ভিড় আর ক্রেতাদের সন্তুষ্টি দেখে আয়োজকরা বলছেন, ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেষ বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যেমন কমেছে ক্রেতাদের ভিড়, তেমনি ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে স্টলগুলো। তবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্বাদ আর এ আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে গেছে আগত দর্শনার্থীদের মনে, পরের বছরের অপেক্ষায়।



Our Like Page