রমজানের শুরু থেকে চলা এ আয়োজনের শেষ দিনে অংশ নেয় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের সামনে সবচেয়ে বেশি ভিড়। কেউ কাবাবের প্যাকেট হাতে, কেউ জিলাপির বাক্স, আবার কেউ হালিম নিয়ে ব্যস্তভাবে বের হচ্ছেন।
হেরিটেজ রেস্টুরেন্টের বিক্রেতা শাহরিয়ার নাফিজ বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে কাবাব আইটেম।
পাশের রান্নাঘরে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাবুর্চিরা। কড়াইতে মাংস নাড়া, ওভেনে কাবাব ঢোকানো– সবমিলিয়ে যেন এক লাইভ কিচেন। বাবুর্চি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা অর্ডার অনুযায়ী গরম গরম খাবার দিই।

আইসিসিবির সার্ভিস সুপারভাইজার দেলোয়ার হোসাইন জানান, তাদের চিকেন রেশমি কাবাব ক্রেতাদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। ‘বিশেষ মশলা আর ক্রিমের মিশেলে তৈরি বলেই এর স্বাদ আলাদা’, বলেন তিনি। তবে ইফতার বাজারের শেষ আয়োজনে মাত্র ২০ স্বাদের ইফতার বিক্রি করা হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শেষ সময়ের কেনাকাটার জন্য সবাই ব্যস্ত। আমাদের অনেক কর্মীও ছুটিতে চলে গেছেন।
এ আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল ‘রসুই ঘর’। জিয়াউন নাহার সিঁথির এ স্টলে শেষ দিনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে ছানা জিলাপি ক্রেতাদের দৃষ্টি কেড়েছে।
সিঁথি বলেন, ‘ছানা জিলাপিটা আমাদের বিশেষ আইটেম। অনেকেই প্রথমে অবাক হন, পরে খেয়ে আবার নিতে আসেন।’ তার স্টলে আরও ছিল চিকেন পুলি, চিকেন স্ট্রিপ, শাহী রোস্ট, কাবুলি পোলাও, দইবড়া ও গোলাপ জাম।
স্টল পরিচালনায় থাকা তার স্বামী মোর্শেদ আহমেদ বলেন, ‘আমি চাকরি করি কিন্তু ওর রান্নার স্বাদ যেন আরও মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই ইচ্ছা থেকেই এখানে আসা। মানুষের সাড়া ভালো, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
ক্রেতাদের মধ্যেও ছিল সন্তুষ্টির ছাপ। রাজধানীর বাসিন্দা রওশন আরা বলেন, ‘পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে এখানে আসা যায়। পরিবেশ পরিষ্কার, খাবারের মানও ভালো। শেষ দিনে এসে কিছু প্রিয় আইটেম নিয়ে গেলাম।’
আয়োজকদের দাবি, দশমবারের মতো আয়োজিত এ ইফতার বাজারে স্বাস্থ্যবিধি ও মান বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সঠিক সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা ছিল পুরো আয়োজনজুড়ে।
প্রথম রোজা থেকে শুরু হওয়া এ বাজার প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে ইফতার বিক্রি শুরু করে ২৭ রমজান পর্যন্ত চলেছে। শেষ দিনে ভিড় আর ক্রেতাদের সন্তুষ্টি দেখে আয়োজকরা বলছেন, ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শেষ বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যেমন কমেছে ক্রেতাদের ভিড়, তেমনি ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে স্টলগুলো। তবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্বাদ আর এ আয়োজনের অভিজ্ঞতা থেকে গেছে আগত দর্শনার্থীদের মনে, পরের বছরের অপেক্ষায়।