শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একই পরিবারের চার প্রতিবন্ধীর মানবেতর জীবন কুতুবদিয়া দ্বীপ সংকটে: ভাঙনে হারাচ্ছে ভূমি, ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণের জরুরি দাবি ৩ টাকার কলমে স্বপ্ন: ‘ইকনো কামাল’-এর গল্প,ব্যবসা থেকে রাজনীতির উত্থান শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি: ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক পেরিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ‘শান্তির খোঁজ’ প্লাস্টিক সার্জারি বিতর্কে মুখ খুললেন কেয়া পায়েল: “ভক্তরা মেনে নিতে পারেনি” দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে শবনম বুবলী অভিনীত ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ অবরোধের মধ্যেও ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো: ফ্লাইট চালু, তেল আয়ে উল্টো বৃদ্ধি হরমুজ সংকটের ছায়ায় নতুন বাণিজ্যপথ: ইউরোপমুখী বিকল্প করিডোরে জোর দিচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক মিডফোর্ট হাসপালের হিসাব রক্ষক জাহিদুর রহিম

গায়ে রং চড়িয়ে নাটোরের রাস্তায় নামছে লক্করঝক্কর বাস!

নাটোর: পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে এলে দেশের মানুষ যেমন বাড়ি ফেরার আনন্দে মুখর হয়ে ওঠেন, তেমনি ব্যস্ত হয়ে ওঠে পরিবহন খাতও। নাটোরও এর ব্যতিক্রম নয়। সেখানে বাসের বডি তৈরির ও মেরামতের ওয়ার্কশপগুলোতে এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

কিন্তু চকচকে রং আর ঝকঝকে বাহ্যিক সাজের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা।

অনেক বাসই আসলে পুরোনো, জরাজীর্ণ এবং ফিটনেসবিহীন। যাত্রীদের দৃষ্টি কাড়তে এবং ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয় করতে এসব লক্করঝক্কর বাসকে নতুন রূপে সাজিয়ে মহাসড়কে নামানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন পরিবহন মালিকরা। ফলে আনন্দের ঈদযাত্রা কখনো কখনো বিষাদে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। 

জানা যায়, নাটোর পৌর এলাকার বড়হরিশপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০টি ছোট-বড় কারখানায় চলছে এ ব্যস্ততা।

সেখানে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন শ্রমিকরা। জং ধরা বডি ঝালাই করা, ভাঙা সিট মেরামত করা, আর শেষে চোখ ধাঁধানো রংয়ের প্রলেপ-সব মিলিয়ে পুরোনো বাসগুলোকে নতুনের মতো দেখাতে চলছে এক ধরনের ‘মেকওভার’। 

কারখানার শ্রমিক পারভেজ জানান, ঈদকে সামনে রেখে মালিকদের নির্দেশ পুরোনো বাসগুলোকে ‘ভিআইপি লুক’ দেওয়ার। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা কাজ করেন।

তার ভাষায়, ভাঙাচোরা গাড়ি দেখলে যাত্রীরা উঠতে চাইবে না। তাই বাইরে থেকে যেন একেবারে নতুন মনে হয়, সেইভাবেই সাজাতে বলা হয়েছে।

আরেক শ্রমিক সুলতান আলী বলেন, ঈদ সামনে থাকায় যাত্রীর চাপ বাড়বে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত কাজ করি। ঈদের পাঁচদিন আগে দুটি গাড়ি ডেলিভারি দেওয়ার কথা।

 

নাটোর বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে নাটোর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট এবং অভ্যন্তরীণ সড়কে ৩০০টির বেশি বাস চলাচল করবে।

সমিতির সভাপতি লক্ষ্মণ পোদ্দার দাবি করেন, কোনো লক্করঝক্কর বাস সড়কে নামানো হবে না। তবে বাস্তবে ওয়ার্কশপগুলোর দৃশ্য অন্য গল্পই বলছে। পুরোনো বাসগুলোকে মেরামত করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হচ্ছে ঈদযাত্রার জন্য।

এদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মহাসড়কে ৩৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ জন। একই সময়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৫৭টি মামলা। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে পুরিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে মহাসড়কে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন বাস ও থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বাসে চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে ভিডিও ধারণ ও কঠোর তদারকির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল হক সরকার বলেন, শুধু বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে বাসকে নিরাপদ বলা যায় না। যাত্রীচাপের সুযোগে বেপরোয়া গতি এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে ঈদের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়- সেজন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

একই কথা জানালেন সনাকের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, বাপার সদস্য সচিব শিবরী সাদিকসহ আরও অনেকে।

বাসযাত্রী আশরাফুল ইসলামসহ অনেকেই মনে করেন, বাসের রং কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং ইঞ্জিনের সক্ষমতা ও চালকের দক্ষতাই হওয়া উচিত নিরাপত্তার মূল বিবেচনা। তারা বাসের ছাদে যাত্রী তোলা, অতিরিক্ত গতি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

আনন্দযাত্রা নিরাপদ হোক:
ঈদ মানেই ঘরে ফেরার আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে মিলনের উচ্ছ্বাস। কিন্তু সেই আনন্দ যেন সড়ক দুর্ঘটনার কারণে ম্লান না হয়ে যায়-এটাই এখন সবার প্রত্যাশা। তাই রং-পলিশের ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলোকে সামনে এনে, মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তাহলেই হয়তো নিরাপদ থাকবে ঈদযাত্রা, আর অক্ষুণ্ন থাকবে মানুষের আনন্দ।

এদিকে নাটোর বিআরটিএয়ের সহকারী পরিচালক আলতাব হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, কোনোভাবেই লক্করঝক্কর বাস রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না। তাই বাস মালিকদের আগে থেকেই বসার সিট মেরামত, রং করাসহ সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। সেই মোতাবেক তারা সংস্কার কাজ করেছেন। আর ঈদকে সামনে রেখে নাটোরে আরো ৬টি নতুন বাস নামছে। ঈদযাত্রায় কোনেভাবেই যাত্রী হয়রানি বা কোনো কিছু তাদের অস্বস্তির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য আমরা প্রস্তত আছি।



Our Like Page