শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

কৃষিঋণে গতি বাড়লেও নজরদারি এখন চ্যালেঞ্জ

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের কৃষিঋণ বিতরণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ছয় মাসে কৃষিঋণ বিতরণ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮ কোটি টাকায়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বড় অগ্রগতি। একই সঙ্গে ঋণ আদায়েও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা ব্যাংকিং খাতে কৃষিঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। ফলে বকেয়া কৃষিঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা, যা এক বছরে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ বিতরণ ও আদায়- দুই সূচকেই একযোগে প্রবৃদ্ধি হওয়ায় কৃষি অর্থায়নে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হলো কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, চাষাবাদের আওতা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের বাড়তি বিনিয়োগের প্রয়োজন।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ও পল্লি ঋণে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোও মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি- উভয় শ্রেণির ব্যাংককে গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে হচ্ছে। 

তবে কৃষিঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে।



Our Like Page