মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্র তিনটির ট্যারিফ পুনঃনির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) পরিচালিত হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত ট্যারিফ পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
পুনঃনির্ধারিত ট্যারিফ অনুমোদিত হলে বাবিউবো বছরে প্রায় ৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরে ৩০৫.৩৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং বাবিউবোকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে বছরে প্রায় ১ হাজার ৪৫৩ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে।
ইজিসিবি হলো সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যার ৯৫.৮০ শতাংশ মালিকানা বিদ্যুৎ বিভাগের এবং ৪.২০ শতাংশ মালিকানা বাবিউবোর। প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত লভ্যাংশ সরকারের রাজস্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) পরিচালিত সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত ট্যারিফ পুনঃনির্ধারণ করার অনুমোদ দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে বছরে ২৪৮ কোটি ২৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং বাবিউবোকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩৪৫ কোটি ৭০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিতে হবে। এ হিসাবে অবশিষ্ট চুক্তির ১৬ বছর ১ মাস ৯ দিনের মেয়াদে মোট ২১ হাজার ৬৭৫ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) কর্তৃক পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত ট্যারিফ পুনঃনির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার দাম ৫.৭৮৪৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৫.৭৬৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ট্যারিফ অনুমোদিত হলে বাবিউবো বছরে প্রায় ১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা সাশ্রয় করতে পারবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য বাবিউবোকে বছরে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা দিতে হয়। এ হিসাবে অবশিষ্ট চুক্তির ১৪ বছর ১১ মাস ২২ দিনের মেয়াদে মোট ২৩ হাজার ৮৮০ কোটি ২ লাখ টাকা বাবিউবোকে পরিশোধ করতে হবে।
এপিএসসিএল হলো সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং এর অর্জিত লভ্যাংশ সরকারের রাজস্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।