তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, মতভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর ৫ সার্কিট হাউজ রোডে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক শেষে রাত ৯টা ১১ মিনিটের দিকে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান।
তিনি জানান, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সংস্কার ও বিচার প্রশ্ন, কৃষি-শিক্ষা-শিল্প-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে নীতিনির্ধারণী সংলাপের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। পাশাপাশি নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলো বিএনপি নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে।
আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, কর্মসূচি আলাদা হবে। কিন্তু দেশের প্রশ্নে আমরা যেন একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে পারি, এমন পরিবেশ অটুট থাকুক, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও জানান, ‘২৪ এর অভ্যুত্থানে’ যারা প্রাণ দিয়েছেন বা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন ও পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আখতার হোসেন বলেন, এটি ছিল নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ। সরকার গঠন বা জোটগত কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আজ কোনো আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হলে আমরা স্পষ্ট করে জানাব।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির পক্ষে আরও ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আখতার হোসেনের ভাষায়, আজকের এ সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেয়। সংলাপের মধ্য দিয়েই যেকোনো সংকট সমাধানের পথে এগোনো সম্ভব।
জুলাই আগস্টের গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার রায় কার্যকরসহ বিগত সময়ের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার অব্যাহত রাখতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান মো. নাহিদ ইসলাম।
বৈঠকে নাহিদ ইসলাম জানান, নবগঠিত সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তবে যেকোনো সংকট সমাধানে সংলাপের পথ উন্মুক্ত থাকবে।