২০২৫ সালের অক্টোবরে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়ী হন সানায়ে তাকাইচি।
জাপানের রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা তাকাইচির এই সিদ্ধান্তকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছিলেন।
যদিও শক্তিশালী বিরোধীর অভাবে যুদ্ধোত্তর ইতিহাসের বড় সময়জুড়েই এলডিপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাপান শাসন করে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে দলটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ক্ষমতায় আসার পর তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলটির জন্য বড় সহায়ক হয়ে ওঠে।
ভোটারদের বড় একটি অংশ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তাকাইচির উদ্দীপনাময় প্রচার, জনমুখী ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি এবং জাতীয়তাবাদী বক্তব্য অনেক ভোটারকে আকৃষ্ট করেছে। তবে ব্যবসায়িক মহলসহ সমালোচকদের একটি অংশ সন্দিহান। তাদের মতে, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা কঠিন, বিশেষ করে যখন জাপানের সরকারি ঋণ উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ পর্যায়ে। পাশাপাশি অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থান বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী ও শ্রমঘাটতির সমস্যাকে আরও জটিল করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তরুণ ভোটারদের কাছে এই নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তারা বলছেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শীত তাদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে না।
তবে তুষারপাত ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে। এবারের আগাম ভোটে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। আবহাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিগাতা প্রিফেকচারসহ কয়েকটি অঞ্চলে গত রোববার ভারী তুষারপাত হয়েছে। জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৭টি ট্রেনলাইন ও ৫৮টি ফেরি রুট বন্ধ ছিল এবং ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ভোটগ্রহণের দিন টোকিওতেও বিরল তুষারপাত দেখা যায়।
এবার তাকাইচি ও এলডিপিকে তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সাবেক জোটসঙ্গী কোমেইতো এখন কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বড় বিরোধী জোট গঠন করেছে। ফলে, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা সরাসরি ভোটে প্রতিফলিত হবে; এ ব্যাপারে ভোটার ও বিশ্লেষকরা নিশ্চিত নন।
সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপক কোইচি নাকানো বলেন, এটি কোনো প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন নয়, এটি সংসদীয় নির্বাচন। এলডিপির অনেক প্রার্থীই অতীত কেলেঙ্কারিতে জড়িত পুরুষ রাজনীতিক।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এশিয়া-বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাসাহিকো তাকেদা এক লেখায় মন্তব্য করেছেন, সরকারের নীতিপ্যাকেজ স্বল্পমেয়াদে পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও দুর্বল উৎপাদনশীলতা ও স্থবির প্রকৃত মজুরির মতো মৌলিক সমস্যার সমাধান করছে না।
পররাষ্ট্রনীতিতেও বিতর্কে জড়িয়েছেন তাকাইচি। চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, সে ক্ষেত্রে জাপান আত্মরক্ষামূলক বাহিনী ব্যবহার করতে পারে, এমন মন্তব্যে বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়।জাপানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন।
ওয়াশিংটনের সঙ্গেও সম্পর্ক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে জাপানের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
তাকাইচি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন, যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। দুজনই জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে। এই সম্পর্কও ভোটারদের ভাবনায় প্রভাব ফেলছে।
জাপানের নাগরিকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে বাজেটের ভারসাম্য কোথায় থাকবে, সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।