বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

চাঁদপুরে হেলে পড়া দুই ভবনে তালা

 চাঁদপুর শহরের পালপাড়ায় একটি আবাসিক ভবন অন্য একটি ভবনের ওপর হেলে পড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে দ্রুত খালি করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পৌরসভা কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে সোমবার (৪ মে) বিকেলে লোকজনকে বের করে দিয়ে ভবন দুটিতে তালা দিয়ে দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। আজ দুই ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর সিলগালা করে দেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, চারতলা দুটি ভবনের একটি হেলে অন্যটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে করে উভয় ভবনের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং নিচে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবন দুটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
 

সোমবার (৪ মে) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা ভবন দুটিকে বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ অনিরাপদ ঘোষণা করেন এবং বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশ না মানায় বিকেলে পৌর কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বের করে দুই ভবনে তালা লাগিয়ে দেয়। আর মালামাল সরিয়ে নিতে মঙ্গলবার সময় দেয়। আজ মালামাল নেওয়ার পর দুই ভবন সিলগালা করে দেওয়া হবে।

হেলে পড়া ভবনের মালিক মো. শাহজাহান জানান, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় নির্মাণকাজ তদারকি করতে পারেননি। তবে কী কারণে ভবনটি হেলে পড়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

পাশের ভবন মালিক মো. শাহ আলম ঢালী জানান, ২০১২ সালে তিনি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। পৌরসভার নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, তার প্রতিবেশী মো. শাহজাহানের ভবন হেলে তার ভবনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এতে করে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন। বিষয়টি তিনি চাঁদপুর পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেন।

চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের ফায়ার লিডার মো. এনামুল হক ভূঁইয়া জানান, ভবনটি প্রায় ১০ ইঞ্চি হেলে পড়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তার ভাষায়, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। হেলে পড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

এদিকে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবন দুটি খালি করে সিলগালা করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। এছাড়া দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা আশঙ্কা করছেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।



Our Like Page