শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাশেমী।
সকাল থেকেই দিনাজপুরসহ আশেপাশের জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন।
ঈদ জামাতে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বগুড়ার গাবতলী থেকে আসা জাবেদ আলী বলেন, “এর আগেও এখানে নামাজ পড়েছি। এবারও এসেছি।
গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে আসা ইমরান হোসেন বলেন, “শুনেছি এখানে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হয়। তাই ভাইকে নিয়ে এবার প্রথমবারের মতো অংশ নিলাম।”
স্থানীয় মুসল্লি ফিরোজ জানান, “আবহাওয়া খারাপ থাকায় এবার উপস্থিতি কিছুটা কম।
নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ইমাম মাওলানা মতিউর রহমান কাশেমী বলেন, “সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায় করতে পারায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। দেশবাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়েছে।
দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত গোর-এ শহীদ ঈদগাহ ময়দানটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাতের স্থান। ২০১৭ সালে নির্মিত এই ঈদগাহে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ ও দৃষ্টিনন্দন মিনার। প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
ঈদগাহ মাঠে ৫১৬ ফুট দীর্ঘ আর্চ, উঁচু মিনার ও বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর এখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।