মৌসুমী
ছোটবেলায় ঈদগুলোতে অনেক আনন্দ করতাম। তখন ঈদের আনন্দ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত। এখন অবশ্য সেরকম হয় না। সেসব দিন খুব মিস করি।
জয়া আহসান
ঈদ কতটা আনন্দের তা অনুভব করা যায় শৈশব-কৈশোরে। এখন তো ঈদ মানে এক টুকরো অবসর।
ঈশিতা
শৈশবের ঈদের চেয়ে এখনকার ঈদ আমার কাছে বেশি প্রিয়। কেউ বিশ্বাস করুক বা না করুক এটাই সত্যি। কারণ আমার বেশিরভাগ আত্মীয়-স্বজন দেশের বাইরে থাকেন। সে কারণে ছোটবেলায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার তেমন সুযোগ হয়নি। এখন ঈদ আনন্দময় মনে হয় এ কারণে, শ্বশুরবাড়িতে সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি। উৎসব উপলক্ষে সন্তানদের হাসিমুখ আমাকে বেশি খুশি করে। তাদের নিয়ে আনন্দ করি, আড্ডা দেই অতিথি ও বন্ধুদের সঙ্গে। সব মিলিয়ে ঈদ হয়ে ওঠে সত্যিই আনন্দের।
পূর্ণিমা
সবসময় ঈদে অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে চেষ্টা করতাম। আমার মা বিশেষ করে আমাদের দুই বোনের জন্য স্পেশাল ডিজাইন করে ঈদের জামা বানাতেন। এরপর সেগুলো লুকিয়ে রাখতাম। যাতে কেউ ঈদের জামা দেখতে না পায়। কেউ যাতে না বুঝতে পারে কী রঙ বা কোন ধরনের পোশাক। এসব নিয়ে সে সময় বান্ধবীদের মধ্যে খুব আগ্রহ লক্ষ্য করতাম। ঈদের দিন সে জামা পরে সবাইকে চমকে দিতাম। এসব ছিল ঈদের আনন্দ।
পরীমণি
সবার কাছেই ছোটবেলার ঈদ একটু অন্যরকম। আমারও অন্যরকম ছিল। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছি। নানা-নানু আর মামাদের আদরে বড় হয়েছি। তখন সবার কাছেই সেলামি পেতাম। দিনভর বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়াতাম। তবে বাবা-মা না থাকার কষ্ট সবসময় অনুভব করতাম। এখন দর্শকদের ভালোবাসা পাই। ঈদে সিনেমা থাকলে এখন বেশি আনন্দ হয়। ঈদে এখন বাড়িতে মেহমান আসে, তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। কাছের মানুষদের বাসায় আমিও যাই।
মেহজাবীন
আমার বেড়ে ওঠা দেশের বাইরে হওয়ায় দেশে ঈদ উদযাপনের অনেক আনন্দই মিস করতাম। তাই এখন দেশে সবার সঙ্গে ঈদ করতে বেশি ভালো লাগে। ঈদে সেলামি আমার কাছে দারুণ আনন্দের বিষয়। আগে সেলামি নিজে পেতাম, এখন অন্যদের দিতে হয়। ফলে সেলামি নেওয়া এবং দেওয়া উভয়ই উপভোগ করি। সময় পেলে ঈদে নিজের কাজ থাকলে সেগুলো দেখার চেষ্টা করি। এছাড়া অন্যদের কাজও দেখার চেষ্টা করি।
বুবলী
ছোটবেলার একটা স্মৃতি এখনও মনে বেশ উজ্জ্বল হয়ে আছে। আমি বোনদের মধ্যে সবার ছোট। তাই আমার আবদার বেশি ছিল। ঈদের দিন সকাল, দুপুর, রাতে পরার জন্য তিনটা ড্রেস কিনে দিতেই হবে। আর এগুলোর কালার যেন বান্ধবীরা না জানতে পারে। কারণ বান্ধবীদের মধ্যে তখন নতুন ড্রেস নিয়ে খুব প্রতিযোগিতা হতো। একবার ঈদের দিন সকালে অনেকগুলো বান্ধবী আমাদের বাড়িতে আসে। দেখি কী, সকালে যে ড্রেস পরব সেটার রঙ এক বান্ধবীর ড্রেসের সঙ্গে মিলে গেছে। এরপর আমার কান্না শুরু হয়ে গেল। এখন সেসব দিনগুলো মিস করি। এখন ঈদ এক টুকরো অবসর এনে দেয়। সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শকদের সঙ্গে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা হয়।
নুসরাত ফারিয়া
আমার বেড়ে ওঠা যৌথ পরিবারে। এমন পরিবারে ঈদ করা সত্যি আনন্দের। ছোটবেলায় আঙ্কেলদের কাছ থেকে জোর করে সেলামি আদায় করতাম। প্রত্যেক ঈদে ভোরে উঠতাম। যে যত আগে উঠতে পারত তার ঝুলিতে সেলামি বেশি পড়ত। কিন্তু এক ঈদে ঘুম থেকে উঠতে দেরি করি। পরে উঠে দেখি—আমার সেলামি সব কাজিনরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে নিয়েছে। এরপর থেকে ঈদের আগের রাতে নির্ঘুম কাটাতাম, ভোর হতেই সেলামির জন্য দৌড় দিতাম। এখন বড় হয়েছি, উল্টো সেলামি দিতে হয়। মনে হয় আমার উন্নতি হয়ে গেছে। কিন্তু সেলামি পেতে কার না ভালো লাগে।
মাসুমা রহমান নাবিলা
আমার শৈশব কেটেছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। তাই বলে প্রবাস জীবনে আনন্দ ছিল না—এমন না। আমরা যে ভবনে থাকতাম সেখানে কয়েকটি বাঙালি পরিবার ছিল। এজন্য বন্ধু-বান্ধবের কমতি ছিল না। স্বদেশি বাঙালিরা সবাই একসঙ্গে ঈদ করতাম। সবচেয়ে বেশি মজা হতো চাঁদরাতে। চাঁদ দেখার পর বিল্ডিংয়ের সব ছেলেমেয়েরা হৈচৈ করতাম। এরপর বান্ধবীদের নিয়ে বসে পড়তাম মেহেদিতে হাত রাঙাতে। কাল ঈদ—একথা ভেবে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠতাম। এখন ইচ্ছে হয় শৈশবের সেইসব দিনগুলোতে ফিরে যেতে। এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে ব্যস্ততা বেশি।