সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ গোমা সেতুটি পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোতে নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৫১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এছাড়া চারটি ৮ মিটার ও একটি ৬ মিটার আরসিসি বক্স-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় গোমা সেতু প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে কারিগরি পরিবর্তন ও নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর উচ্চতা বাড়ানোয় প্রকল্প ব্যয় সংশোধন করে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়।
সওজ বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের সব কাজ শেষ হয়েছে এবং উদ্বোধনের পরই সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মাহফুজ খান বলেন, সেতুর উচ্চতা সংক্রান্ত কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে এখন সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের আগে সেতুটি উদ্বোধন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান বলেন, গোমা সেতু চালু হলে বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। কৃষিপণ্য, মাছসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।