বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন এই নির্মাতা। স্বপ্ন একটাই- একদিন হলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণকৌশল রপ্ত করা।
২০১৬ সাল থেকে শুরু হয় আমেরিকায় যাওয়ার চেষ্টা। টানা চার থেকে পাঁচবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। তবু দমে যাননি। কিছুটা বিরতি নিয়ে ২০২১ সালে আবার আবেদন করেন।
দেশে থাকাকালীন সময়েই মাহাদী শাওনের ক্যারিয়ার ছিল বেশ সমৃদ্ধ। গ্রামীণ ব্যাংকের ডকুমেন্টারি ফর ড. ইউনূস, বিল গেটস ফাউন্ডেশন, মেটা ডমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাওয়ারনেস, রানার ও হিরো মোটরসাইকেল, এসইসি, এপিআর এনার্জি, এক্সিলারেট এনার্জি এলএনজি, যমুনা গ্যাস স্টোভস- এমন বহু ডকুমেন্টারি ও বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি নাটক ও ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন তিনি।
তবু এক পর্যায়ে এসে তার মনে হয়েছে, দেশে থেকে যা শিখছেন তা নির্মাণের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, মূলত হলিউডে নির্মাণের ঝোঁক থেকেই দেশ ছেড়েছি। নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে আমার মনে হয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে যা শিখছি তা আসলে নির্মাণের জন্য পুরোপুরি না। আমি স্যাটিসফাইড ছিলাম না।
আমেরিকায় এসে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছেন মাহাদী শাওন। হলিউডের বিভিন্ন গিল্ড ও একাডেমির সদস্য তিনি। ইউনিভার্সাল স্টুডিও, নেটফ্লিক্স, ডিজনি ও বিভিন্ন ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রজেক্টে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাশাপাশি তিনি একজন সার্টিফায়েড সিনেমা ফটোগ্রাফার, এডিটর ও কালারিস্ট। বর্তমানে একটি ল ফার্মে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম মেকিংয়ে ব্যাচেলর করছেন।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে চান মাহাদী শাওন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম মেকিংকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চান, দেশে ফিল্ম শেখানোর একটি শক্ত ও সঠিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার স্বপ্নও তার।
তিনি বলেন, আমার দেশের ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অনেক ভাবনা রয়েছে। কারণ আমি ৮ বছরের ওপরে বাংলাদেশে কাজ করে এসেছি। বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্ম যারা ফিল্ম নিয়ে কাজ করবে, তাদের নিয়ে আমিও কাজ করতে ইচ্ছুক। এ ছাড়া যারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম মেকিং করতে চায়, তাদের নিয়েও কাজ করব, যাতে করে তারা গ্লোবালি ভালো নির্মাণ করতে পারে।