খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের।
আজিজ খান বলেন, আমাদের লোকজন বাংলাদেশ সরকারকে তদন্তে সহযোগিতা করছে, যা আমাদের করা উচিত। আমরা তাদের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। কারণ আমরা জানি আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হব।
তিনি দাবি করেন, তার বা তার কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আমার বা আমার কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।’
আজিজ খানের ভাই ফারুক খান বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন। তিনি একটি হত্যা মামলায় ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে কারাগারে বিচারের অপেক্ষায় আছেন।
৭০ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে তার বিদ্যুৎ, বন্দর, ফাইবার অপটিক্স ও রিয়েল এস্টেট খাতে ব্যবসা রয়েছে।
আজিজ খান ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে প্রথম বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেন। সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করছে।
এই ব্যবসায়ী ১৯৮৮ সালে সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো এক সময়ে তিনি দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বলে জানতে পেরেছে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আজিজ খান ইউনিসেফ ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিলের একজন সদস্য। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের অনারারি কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটার পর সিঙ্গাপুরের এই শীর্ষ ধনী নানা জটিলতার মুখে পড়েন।
এস আলম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও চলছে তদন্ত
আরেক ধনকুবের সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার পরিবারের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশে তদন্ত চলছে।
সাইফুল আলম এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তার খাদ্য, উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন, আবাসন এবং টেলিযোগাযোগের মতো নানা খাতে ব্যবসা রয়েছে।
এই ব্যবসায়ী ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় বেশ কয়েকটি হোটেল ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি রয়েছে।
সাইফুল আলম, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে, যার তদন্ত চলছে। আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করার আদেশ দিয়েছেন।